তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: ২০২১ থেকে ২০২৬ সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মহানন্দা নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। ২১ এ ছিলেন প্রার্থী। এক সময়ের ‘চ্যালা’ শংকর ঘোষের কাছে হেরে গিয়ে ধাক্কা সামলাতে বেশ সময় লেগেছিল প্রবীণ বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্যের। বর্তমানে দলের কোনও পদেও তিনি নেই। অনেকেই ভেবেছিলেন রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন অশোক ভট্টাচার্য। তবে সিপিএমের প্রার্থী ঘোষণা হতেই ফের নির্বাচনী ময়দানে গা ঘামাতে দেখা যাচ্ছে বছর ৭৬ এর ‘চির যুবা’ এই নেতাকে।
শিষ্য বদলেছে, শংকরের জায়গা নিয়েছেন শরদিন্দু চক্রবর্তী। এবারে নতুন ছাত্রকে নিয়ে সকাল থেকে রাত, শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন বর্ষীয়ান এই বাম নেতা। বাধ্য ছাত্রের মতো অশোকবাবুর সঙ্গে বিষয়ে আলোচনা করে প্রচার চালাচ্ছেন শরদিন্দুবাবু। দীর্ঘদিনের কাউন্সিলার শরদিন্দুবাবু ওয়ার্ডের রাজনীতি থেকে বের হয়ে বিধানসভার মতো বড় মঞ্চে প্রার্থী হয়েছেন প্রথমবার। কাজেই বড় মঞ্চে লড়াই যে কঠিন তা মানছেন তিনি। একদিকে এক সময়ের সহকর্মী শংকর ঘোষ, অন্যদিকে শহরের মেয়র গৌতম দেব। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে টেক্কা দিতে লড়াইয়ের কৌশল কী হতে পারে তা বুঝতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। তাঁর এই কাজে সাহায্য করতে পিছপা হননি ২০ বছরের মন্ত্রীত্ব সামলানো অশোকবাবু। পাশে বসিয়ে নির্বাচনী রণকৌশল ঠিক করে দেওয়ার কাজে নেমেছেন তিনি। কাজেই নির্বাচনী কার্যলয় খোলা থেকে শুরু করে এলাকায় কোন ইস্যুতে মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হবে তা বুঝে নিচ্ছেন তিনি। শহরের বুদ্ধিজীবী মহল থেকে যুব সমাজের কাছে দ্রুত পৌঁছনোর চটজলদি সমাধান রীতিমতো হাতেকলমে শেখাচ্ছেন প্রবীণ নেতা। ঘনিষ্ঠ মহলে অশোক দাবি করেন, প্রার্থী হওয়াটা মূল লক্ষ্য নয়। তবে দলীয় প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী লড়াইয়ে এই প্রচার করতে নামা কার্যত জীবনীশক্তিকে বাড়িয়ে দেয়।
যদিও মুখে প্রার্থীর মূল পরামর্শদাতা প্রকাশ্যে সেকথা মানতে চাইছেন না। অশোকবাবু বলেন, শরদিন্দু দীর্ঘদিনের দল করা প্রার্থী। যোগ্য প্রার্থী। তবে নির্বাচনী লড়াইয়ে কোনো অসুবিধা হলে আমি অবশ্যই সাহায্য করছি। অন্যদিকে বামপ্রার্থী বলেন, অশোক দা আমাদের দলের একজন দক্ষ নেতা। নির্বাচনী লড়াইয়ে তাঁর পরামর্শ পাচ্ছি সেটা আমার সৌভাগ্য। • শরদিন্দুকে নিয়ে প্রচারে অশোক ভট্টাচার্য। - নিজস্ব চিত্র।