নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের চীনা আগ্রাসন অরুণাচল প্রদেশে? অভিযোগ, জিনপিংয়ের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা টপকে ওই রাজ্যের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং এলাকায় ঢুকে ঘাঁটি গেড়েছে। গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয়েছে লালফৌজের এই গতিবিধি। তাকসিং এলাকার পাঁচটি গ্রামের বিস্তীর্ণ জমি দখল করে সেতু, রাস্তা এমনকি ক্যাম্প বসানোর কাজও শুরু করেছে। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় সেনাও। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসার কথা চীনা প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের। তার আগে লালফৌজের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের যে অভিযোগ উঠেছে তাতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফের কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।
তাকসিংয়ের বাসিন্দা আদিবাসী ‘নাহ’ (বর্তমানে অরুণাচলে যাদের সংখ্যা ১৬০০-১৮০০’র মধ্যে) নৃগোষ্ঠীর উন্নয়ন সমিতির (এনডব্লুএস) তরফে সভাপতি কেরু চাদের প্রথম তুলেছিলেন এই অভিযোগ। গত ২৬ জুন আপার সুবানসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারকে লিখিতভাবে তিনি লালফৌজের ‘দাপাদাপি’র বিষয়টি জানান। তাকসিং এলাকার কোথায় কী কী নির্মাণ করেছে পিএলএ, চিঠির সঙ্গে সেই ছবিও পাঠানো হয়। সেই চিঠিও এখন সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানানো হয়েছে সেনাকে। আজ, মঙ্গলবার পেমা খান্ডুর সঙ্গে বৈঠকের কথা এনডব্লুএস’এর। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চীনা আগ্রাসন সংক্রান্ত আরও তথ্য পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন কেরু চাদের। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পূর্ব পুরুষের জমি গত ১০-১৫ বছর ধরে ধীরে ধীরে গিলতে শুরু করেছিল চীন। কিন্তু গত জুন মাস থেকে তা চরমে পৌঁছেছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে প্রায় ১৯-২০ কিলোমিটার ভিতরে চলে এসেছে ওরা।’ এই পর্বে সমাজমাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়েছে তাকসিংয়ের বাসিন্দা এক যুবকের ভিডিয়ো। তাতে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘বাই বাই ইন্ডিয়া, খুব শীঘ্রই চীনের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছি আমরা, অরুণাচলবাসী!’ কাপু নাতাম বাম নামে মাঝবয়সি অপর এক মহিলাকে বলতে শোনা যাচ্ছে—‘পেমা খান্ডু আমাকে বোমা দিন। চীনা সেনার উপর ছুড়ব। আমি মরি ক্ষতি নেই, অরুণাচলবাসীদের বাঁচান।’ কেন্দ্র সরকার বা শাসকদল বিজেপির
পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন—‘চীনা আগ্রাসন নিয়ে সরকার বারবার অস্বীকার করায়, ওই যুবক এতটাই হতাশ যে ভারতবর্ষকে গুডবাই জানাচ্ছে। সত্যিটা হল, দেশ হিসেবে আমরা মহাবিপদের সম্মুখীন আমরা।’