Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুরে ছোট্ট রথ টানতে আগ্রহ বাড়ছে কচিকাঁচাদের, খুশি বিক্রেতারাও

কথায় আছে, রথ টানলে দুর্গা আসে। তাই আট থেকে আশি, সবাই রথের রশি টানার জন্য সারাবছর ধরে অপেক্ষা করে থাকেন। কচিকাঁচাদের মধ্যে এখন নিজেদের ছোট্ট রথ টানার আগ্রহ বাড়ছে।

মেদিনীপুরে ছোট্ট রথ টানতে আগ্রহ বাড়ছে কচিকাঁচাদের, খুশি বিক্রেতারাও
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: কথায় আছে, রথ টানলে দুর্গা আসে। তাই আট থেকে আশি, সবাই রথের রশি টানার জন্য সারাবছর ধরে অপেক্ষা করে থাকেন। কচিকাঁচাদের মধ্যে এখন নিজেদের ছোট্ট রথ টানার আগ্রহ বাড়ছে। জগন্নাথের রথ নিয়ে পুরো পাড়ায় ঘুরে আনন্দ করে তারা। অনেকসময় তাদের সঙ্গে বড়রাও সামিল হন। মেদিনীপুরে কয়েকজন শিল্পী প্রায় ১৫বছর ধরে ছোটবড় রথ তৈরি করছেন। ছোট রথের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে। শিল্পীরা জানালেন, এবার দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন হওয়ায় মেদিনীপুর শহরেও রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে উন্মাদনা বেড়েছে। তাই ছোটবড় রথের বিক্রি বেড়েছে।

Advertisement

মেদিনীপুর শহরের চিড়িমারসাই এলাকার বাসিন্দা রিন্টু সিংহ প্রতিবছর প্রচুর ছোটবড় রথ তৈরি করেন। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। এদিন রাস্তার ধারে ছোট্ট রথের গায়ে তুলির টানে নানা কারুকার্য ফুটিয়ে তুলছিলেন রিন্টুবাবু। কাজের মাঝেই বললেন, অল্প বয়স থেকেই কাঠের কাজ করি। তবে বছরের এই সময়ে পুরোদমে রথ তৈরির কাজে লেগে পড়ি। বাচ্চাদের আমার তৈরি রথ নিয়ে রাস্তায় বের হতে দেখে মন ভালো হয়ে যায়। তবে এখন মূল্যবৃদ্ধির কারণে রথের দামও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। রিন্টুবাবু জানালেন, তাঁর কাকা প্রয়াত স্বপন সিংহের কাছেই রথ বানানোর কাজ শেখেন। প্রথমদিকে ১০টি রথ তৈরি করে কাজ শুরু করেছিলেন। এখন ১৫০টি বড় রথ গড়েন। সেইসঙ্গে ৫০০টি ছোট্ট রথ তৈরি করেন। আগে এই ছোট রথের দাম ছিল ৬০টাকা। এখন তার দাম ১০০টাকা। বড় রথের দাম ছিল ৬০০টাকা। সেটা বেড়ে ৮০০টাকা হয়েছে। রিন্টুবাবুর মতো মেদিনীপুরের সুদেব রায়, বিকাশ সিংহরাও রথ তৈরি করেন। তাঁরা জানালেন, রঙ, কাঠের দাম বেড়েছে। তাই দাম কিছুটা বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু বিক্রি ভালোই হচ্ছে। মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা অমর সিংহ বলেন, বাড়ির খুদে সদস্যের জন্য ছোট্ট একটা রথ কিনেছি। রথের দিন দুপুরে জগন্নাথদেবের পুজো হবে। বিকেলে ছোটরা রথ নিয়ে বেরবে। আমরাও ছোটবেলায় পাড়ায় রথ নিয়ে বেরিয়েছি। সেই ঐতিহ্য এখনও বর্তমান।

সম্পর্কিত সংবাদ