Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মন্দির চত্বরে শিশুকে যৌন হেনস্তা, নেওয়া হয়নি গোপন জবানবন্দি! তমলুকের ঘটনায় অবাক আইনজীবী মহল

তমলুকের মন্দির চত্বরে শিশুকে যৌন হেনস্তার ঘটনায় এক সপ্তাহ পরেও গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। আইনজীবীদের বিস্ময়। বিস্তারিত পড়ুন।

মন্দির চত্বরে শিশুকে যৌন হেনস্তা, নেওয়া হয়নি গোপন জবানবন্দি! তমলুকের ঘটনায় অবাক আইনজীবী মহল
  • ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তমলুক শহরে মন্দির চত্বরে শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। এখনও বিচারকের কাছে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দির আবেদন জমা পড়েনি। এই ঘটনায় আইনজীবী মহল বিস্ময় প্রকাশ করছে। কারণ, এধরনের ঘটনায় মেডিক্যাল টেস্ট এবং সিআরপিসি-র ১৬৪ধারা অনুযায়ী নির্যাতিতার বয়ান দ্রুত করতে হয়। অন্যথায় প্রমাণ লোপাট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে প্রভাবিত করার সুযোগ থাকে। আশ্চর্যের বিষয় হল, ১৪জুলাই ঘটনা ঘটলেও এক সপ্তাহ পরও আদালতের কাছে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়ার আবেদনই জমা পড়ল না।

Advertisement

গত ১৪জুলাই তমলুক শহরে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দির চত্বরে চার বছরের এক শিশুকন্যা খেলছিল। তাকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে যৌন হেনস্তা করা হয়। রথযাত্রার আগে এই ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিত শিশুর পরিবার কিংবা মন্দির কর্তৃপক্ষ কেউই থানায় অভিযোগ করেনি। বরং অভিযুক্ত যুবকের বাবা-মাকে এনে সালিশির মাধ্যমে মিটমাট করার চেষ্টা হয়। আরও অভিযোগ, সেই ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী ছিলেন তমলুক শহরের দুই দাপুট বিজেপি নেতা। 
ওই শিশুকন্যাকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরই চিকিৎসক থানায় লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। তারপর ১৭জুলাই রাতে প্রিয়ম দাস নামে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরও ওই শিশুর পরিবার চুপ। একইভাবে চুপ মন্দির কর্তৃপক্ষও। শিশুর পরিবারকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ও দায়রা আদালতের আইনজীবী রুদ্রনীল বেরা বলেন, যৌন হেনস্তার মতো ঘটনায় মেডিক্যাল টেস্ট এবং গোপন জবানবন্দি দু’টোই জরুরিভিত্তিতে করাতে হয়। কারণ, তথ্যপ্রমাণ হিসেবে এই দু’টি জিনিস গুরুত্বপূর্ণ। নিগৃহীতা হোমে না থাকলে তাকে নানাভাবে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাদীপক্ষের ভোকালতনামা পেলে আমি এই মামলায় অংশ নিয়ে আইনি লড়াই লড়তাম। 
ওই আদালতের প্যানেল প্রসিকিউটর সুতপা সামন্ত বলেন, গোপন জবানবন্দির জন্য তদন্তকারী অফিসারকে আদালতে আবেদন জানাতে হয়। কিন্তু, এই কেসের তদন্তকারী অফিসার সেই আবেদন করেননি। তাই গোপন জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি আটকে রয়েছে। এপ্রসঙ্গে ওই কেসের তদন্তকারী অফিসার তথা তমলুক থানার সাব ইন্সপেক্টর মৌসুমি সর্দার বলেন, আমি বাইরে আছি। তাই জবানবন্দির জন্য আবেদন জমা দেওয়া যায়নি।
মাত্র ১৫দিন আগে মহিষাদলে এক সাড়ে চার বছরের শিশুকন্যার উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ, দোকানে আগুন থেকে বিক্ষোভ ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নির্যাতিতা শিশুর পরিবারকে সরকারিভাবে মোট ন’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অথচ, তমলুক শহরে মন্দির চত্বরে একইরকম ঘটনায় বিজেপি নেতাদের একাংশ ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত বলে অভিযোগ। শাসকদলের পক্ষ থেকে কোনও আন্দোলন নেই। এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন বিজেপির নেতৃত্বের একাংশ। কোলাঘাটের এক বিজেপি নেত্রীর প্রশ্ন, ‘কাদের চাপের কারণে পরিবার থানায় অভিযোগ করল না। চিকিৎসককে থানায় অভিযোগ করতে হল?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ