নয়াদিল্লি: মাত্র চার বছরের শিশুকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও দু’টি বেসরকারি হাসপাতাল ভরতি নেয়নি। রাস্তাতেই মৃত্যু হয় শিশুটির। নারকীয় এই ঘটনায় ওই দুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের কার্যত তুলোধোনা করল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। একইসঙ্গে মৃতার পরিবারকে প্রয়োজনীয় অর্থসাহায্যের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ওই মামলার শুনানিতে হাসপাতাল দু’টির চিকিৎসকদের উদ্দেশে আদালত প্রশ্ন তোলে, ‘যেহেতু সে গরিব, তাই তার ঠিকমতো চিকিৎসাই করেননি? আপনাদের নামের পাশ থেকে চিকিৎসক শব্দটি ফেলে দিন!’
গত ১৬ মার্চ গাজিয়াবাদে ওই ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, এক পড়শি চকোলেটের লোভ দেখিয়ে ওই শিশুকে ডেকে নিয়ে যায়। বেশ কিছুক্ষণ পেরিয়ে গেলেও সে না ফেরায় বাড়ির লোকজন তল্লাশি শুরু করে। পরে কাছেই একটি জায়গা থেকে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। তড়িঘড়ি তাকে নিকটবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দু’-দুটি হসপাতাল শিশুটিকে ভরতি নিতে চায়নি। ঘণ্টাদুয়েক পর গাজিয়াবাদ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিন সেই মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। ইতিমধ্যে শীর্ষ আদালতের গঠন করা বিশেষ তদন্তকারী দল এই মামলায় হাসপাতালের ভূমিকা খতিয়ে দেখেছে। রিপোর্টে সাফ জানানো হয়েছে, হাসপাতালের তরফে সঠিক সময় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এদিন সেকথা উল্লেখ করে দুই বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি বলেন, ‘আপনাদের নামের পাশ থেকে চিকিৎসক শব্দটি ফেলে দিন। যদি আপনাদের মধ্যে মানবিকতা বোধ থাকত, তাহলে শিশুটির সঙ্গে আপনারা অন্য হাসপাতালে যেতেন। আপনারা চিকিৎসা করেননি, কারণ সে গরিব। আপনাদের হাসপাতালে টাকা দিতে পারবে না।’ এরপরই মৃতার পরিবারকে প্রয়োজনীয় টাকা দেওয়ার জন্য দুই হাসপাতালকে নির্দেশ দেন বিচারপতি সূর্যকান্ত। এই মামলায় পুলিশের ভূমিকাও শীর্ষ আদালতের স্ক্যানারে রয়েছে। শিশুর পরিবারের অভিযোগ, প্রথমেই তাঁরা স্থানীয় থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে তাঁদের গুরুত্ব না দিয়ে উলটে মারধর করা হয়। পরে চাপে পড়ে ১৭ মার্চ দায়ের হয় এফআইআর। ১৮ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে পকসো ধারা দেওয়া হয়নি। গত এপ্রিল মাসে এই মামলার শুনানিতে গাজিয়াবাদ প্রশাসনের ‘দ্বিচারিতা’ ও ‘অসংবেদনশীলতা’-র প্রশ্নে পুলিশ কমিশনারের জবাব চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার সেই পুলিশের সঙ্গে হাসপাতালকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করাল কোর্ট।