নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা যাঁরা পাবেন না, তাঁদের জন্য চালু হবে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই এই ঘোষণা করেছেন। সেই মতো নতুন এই প্রকল্প চালুর বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিল নবান্ন। সেখানে আছে মোট ন’টি শর্ত। এর মধ্যে যে কোনো একটি শর্ত পূরণ না হলে মিলবে না রাজ্যের এই স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের সুবিধা। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, কোনো পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকা হলেই সেই বাড়ির কোনো সদস্য এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। প্রশাসনিক মহল মনে করছে, পালাবদলের পর নতুন সরকার এসেই এক্ষেত্রে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। আর তা হল, যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন, শুধু তাঁরাই পাবেন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা। এক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম হচ্ছে না। স্বাস্থ্যদপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আয়ুষ্মান ভারতের নিয়ম এবং ২০১১ সালের সামাজিক-অর্থনৈতিক ও জাতিগত আদমশুমারির ভিত্তিতে ঠিক হবে, কোন পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রী নামাঙ্কিত এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। ফলে একেবারে প্রান্তিক অংশের মানুষজনই মূলত এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে পাঁচ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পেতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ক্ষমতায় এসেই পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের জায়গায় কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার কথা ঘোষণা করে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তাহলে কেন আবার রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্প ঘোষণা করতে হল? কারণ, রাজ্যের প্রত্যেক নাগরিক বিগত সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেত। কিন্তু আয়ুষ্মান ভারতের ক্ষেত্রে একাধিক শর্তের কারণে বহু মানুষ ওই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। রাজ্যের প্রায় ১০ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পেত। সেই জায়গায় প্রায় ৭ কোটি মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এত মানুষের বাদ পড়ে যাওয়া নিয়ে বিতর্কও শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। ওই অবস্থায় আয়ুষ্মান ভারতের বাইরে থাকা মানুষকে রাজ্যের নিজস্ব খরচে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয় নবান্ন।
তবে এক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক শর্ত। অন্নপূর্ণা যোজনাসহ অন্যান্য প্রকল্পের মতো এক্ষেত্রেও এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। তবে যাঁদের নাম ট্রাইবুনালে বিচারাধীন আছে এবং সিএএ-তে যাঁরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁরা সুবিধা পাবেন। বিমা প্রকল্পটি সম্পূর্ণ ‘ক্যাশলেস’ হওয়ায় উপভোক্তাদের চিকিৎসার খরচ পরে মিটিয়ে দেওয়ার (রিইমবার্সমেন্ট) কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। পরিবারভিত্তিক প্রকল্প হলেও প্রত্যেক ব্যক্তির নামে বিনামূল্যে পৃথক কার্ড দেওয়া হবে। পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনো ঊর্ধ্বসীমা রাখা হয়নি এই প্রকল্পে। কোথায় কোথায় চিকিৎসা করানো যাবে? বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আয়ুষ্মান ভারতের তালিকায় থাকা প্রতিটি হাসপতালেই মিলবে রাজ্যের এই বিমা যোজনার সুবিধা। নথিভুক্তকরণ, হাসপাতালে ভরতি এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সময় আধার-ভিত্তিক যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গোটা প্রক্রিয়ায় বিশেষ পোর্টালের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যে কোনো সময় রাজ্য নতুন শর্ত আরোপ বা পরিবর্তন করতে পারে। এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে কীভাবে? এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে সেই অর্থে কিছু না বলা হলেও নবান্ন সূত্রে খবর, এর জন্য নির্দিষ্ট একটি পোর্টাল চালু করবে রাজ্য। মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষা করেও উপভোক্তা বাছাইয়ের পথে যেতে পারে সরকার।