নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: পিএম সূর্যঘর যোজনায় সেভাবে সাড়া নেই মালদহে। এনিয়ে মালদহ সফরে এসে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার মথুরাপুরের সরকারি সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, মালদহে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৬৩৪ জন পিএম সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনার জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৩৩৮২ জনের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা এই প্রকল্পে সরকারি সুবিধা পাবেন। কিন্তু সংখ্যাটা যে মোটেই আশাপ্রদ নয়, তা স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, এর পরেরবার যখন মালদহে আসব, এটা যেন অনেক বাড়ে।
শহর ও গ্রামে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষজন যাতে কম খরচে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার পিএম সূর্যঘর যোজনা চালু করেছে। কেউ যদি তাঁর বাড়িতে সৌর প্যানেল বসান, সেক্ষেত্রে যেমন সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার সুযোগ থাকছে, তেমনই প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রকল্পে সৌর প্যানেল বসানোর জন্য লোন মিলবে। কিন্তু তার পরেও মালদহে আবেদনকারীর সংখ্যা এত কম কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিকে, রাজ্যে পালাবদলের পর ঝাড়াইবাছাই হতেই মালদহে আবাস যোজনায় বাদ গেল বহু বেনিফিশিয়ারির নাম। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, তৃণমূল সরকারের আমলে মালদহে ৬৭ হাজার ১১৩ জন বেনিফিশিয়ারিকে বাংলার বাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু বিজেপি সরকারে আসার পর নতুন করে ভেরিফিকেশন শুরু হয়। ঝাড়াইবাছাইয়ের পর ৫৬ হাজার ৭৬০ জনকে পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির জন্য দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ১১ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। এবারের মালদহ সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনায় রাজ্যে আরও ৫০ লক্ষ বাড়ি তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে মালদহে আরও ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৬০২ জনকে নতুন করে বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হবে।
পিএম সূর্যঘর প্রকল্পে পিছিয়ে থাকলেও সেলফ এনুমারেশন বা স্ব-জনগণনায় মালদহ রাজ্য তথা দেশের মধ্যে প্রথম হওয়ায় প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অটল পেনশন যোজনাতেও রাজ্যে প্রথম এবং দেশে তৃতীয় হয়েছে মালদহ। রেশম উৎপাদনে রাজ্যে সেরা হয়ে গৌরব অক্ষুন্ন রেখেছে মালদহ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে অটল পেনশন যোজনায় মালদহের অ্যাচিভমেন্ট ২৯৬ শতাংশ। চলতি আর্থিক বছরে এখনও পর্যন্ত অ্যাচিভমেন্ট ১৪৯ শতাংশ। এ বছর রাজ্যে মোট রেশম উৎপাদন হয়েছে ২৪০০ মেট্রিক টন। মালদহে উৎপাদন হয়েছে ১৫৬৩ মেট্রিক টন। স্ব-জনগণনায় শামিল হয়েছেন, রাজ্যের মোট ১০ লক্ষ ২৯ হাজার মানুষ। এর মধ্যে মালদহে হয়েছে ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার। অন্নপূর্ণা নিয়ে বিক্ষিপ্ত ক্ষোভ-বিক্ষোভের আবহে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, মালদহে অন্নপূর্ণা যোজনায় ৯ লক্ষ মহিলার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, মালদহে মোট ১০ লক্ষ ৫ হাজার ১৪৯ জন মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ভেরিফিকেশনের পর ৯ লক্ষের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। বর্তমানে ৬ লক্ষ ৮০ হাজার মহিলা মালদহে অন্নপূর্ণার টাকা পাচ্ছেন। বাকিরাও যাতে দ্রুত টাকা পান, তার চেষ্টা চলছে।



