সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: সোমবার চিকিৎসার গাফিলতির জেরে নিতুড়িয়া থানার মদনডি গ্রামের সাতাশ বছরের রীতা বাউরির মৃত্যু হয়েছিল। এবার মৃতার পরিবারের পাশে দাঁড়ালো রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার রাতে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে মৃতার পরিবারের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ড থেকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেওয়া হল। পুরুলিয়া জেলাশাসক সুধীর কোন্থাম, জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ, বিধায়ক মামনি বাউরি সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা মৃতার বাড়িতে যান। সেখনেই তার স্বামীর হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ আগস্ট রীতা দেবী গর্ভনিরোধক অপারেশনের জন্য নিতুড়িয়ার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, কাউকে কোন রকম না জানিয়ে ৬ আগস্ট অপারেশন করে দেওয়া হয়। সেই দিন কাউকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরের দিন অর্থাৎ ৭ আগস্ট তাঁর পেট ব্যথা শুরু হয়। ৮ আগস্ট অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অভিযোগ, তারপরও পরিবারকে কোন কিছু জানানো হয়নি। দেখাও করতে দেওয়া হয়নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখা করতে না দেওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার। পুলিশ গিয়ে নার্সিংহোমের তালা খুলিয়ে পরিবারের সাথে মহিলার দেখা করেন। কিন্তু ততক্ষণে মহিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এরপর তাকে আসানসোলের অন্য একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সোমবার, ১০ আগস্ট রীতা বাউরি মারা যান। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ওইদিন নিতুড়িয়া এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নার্সিংহোম এবং চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানিয়ে মৃতদেহ পুরুলিয়া- বরাকর রাজ্য সড়কের উপর রেখে পরিবার সহ এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। মৃতার একটি সাত বছরের মেয়ে ও চার বছরের ছেলে রয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় ৪ ঘন্টা রাজ্য সড়ক অবরোধ থাকার পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ উঠেছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও ওই নার্সিংহোমকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রতিবারে কোন না কোন ভাবে বেঁচে গিয়েছে। সরকার বদলের পর এবার এলাকার মানুষ কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর নার্সিংহোমটি সিল করছে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসকের যাবতীয় কেস স্টোরি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলাশাসক জানান, বাঁকুড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পরিষদের বৈঠক ছিল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে জানতে চান। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হয়।