রাজদীপ গোস্বামী, কেশপুর: ‘আমি এসপিকে বলে গেলাম, নরেন্দ্র মোদি জিন্দাবাদ বলার জন্য অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে বহু মানুষ। সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করবেন। সামনে যাঁরা বসে আছেন, এঁদের জেল খাটিয়েছেন মাসের পর মাস। আমি ভুলিনি।’ মঙ্গলবার ক্ষুদিরাম বসুর আত্ম বলিদান দিবসে কেশপুরের মোহবনীতে এসে পুলিশকে এমনই নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সকালে হেলিকপ্টারে চেপে কেশপুরে আসার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। বাধ সাধে ঝড়-বৃষ্টি। শেষে কোলাঘাট থেকে সড়কপথে মোহবনীতে আসেন তিনি। ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তিতে মাল্যদান করার পর মঞ্চে ওঠেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে এই কেশপুরে আমাকে সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। আমি কিচ্ছু ভুলিনি। মাননীয় এসপিকে বলব, ওই মামলা আপনি বের করবেন। জড়িতদের আমি জেলে দেখতে চাই।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেশপুর মানে বোমা গুলির আওয়াজ। কেশপুর মানে মিথ্যা মামলা। কেশপুর মানে রাজ্য-কেন্দ্রের সমস্ত উন্নয়নের টাকা থেকে কাটমানি। কেশপুর মানে পঞ্চায়েতের কাজে লুট। এসব জিনিস বন্ধ করতে হবে। এবার থেকে কেশপুর মানে ক্ষুদিরাম বসুর কেশপুর, কেশপুর মানে প্রত্যেকটা বাড়িতে শৌচালয়, গরিবের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী আবাস। কেশপুর মানে ভালো বিদ্যালয়, ভালো কলেজ। কেশপুর মানে ভালো হাসপাতাল। কেশপুর মানে চকচকে রাস্তাঘাট। কেশপুর মানে সবার আনন্দ।
কেশপুর ব্লকের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের বয়স মাত্র ৩ মাস। আমরা সব করে দেব বলাটা ঠিক নয়। বর্তমানে জেলাশাসক মোহবনী ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান। এখানে একটা মিউজিয়াম, ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে গ্যালারি ও লেজার শো’য়ের ব্যবস্থা করা হবে। এবং এখানে যারা গবেষণার জন্য আসবেন তাঁদের জন্য থাকার আবাস হবে। পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর তৈরি হবে। আমি প্রাথমিক স্তরে মোহবনী ডেভেলপমেন্ট অথোরিটিকে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করে গেলাম। আগামী বছর এসে যেন দেখতে পাই, যা যা বলে গেলাম তা ঠিকঠাক হয়েছে।’
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাম আমলে সন্ত্রাসের জেরে বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে কেশপুর। সেই সময় তৃণমূল ও কংগ্রেসের বহু নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক-সহ বহু নেতা জেলও খেটেছেন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও বহু নেতা আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। তবে, প্রকাশ্যে মামলা প্রত্যাহারের কথা কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়নি। স্বাভাবিকভাবে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। যদি কোনো বিজেপির নেতা বা কর্মী সত্যিকারের অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত হন, সেক্ষেত্রেও কি মামলা প্রত্যাহার করা হবে? তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, ‘আমার নামেও সিপিএম জমানায় প্রচুর মামলা হয়েছে। ক্ষমতায় আসার আগে মমতাদি বলেছিলেন সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু হয়নি। আমাকে নিয়মিত হাজিরা দিতে হয়েছে আদালতে। মুখ্যমন্ত্রী এমন নির্দেশ দিতে পারেন কি না, আমার জানা নেই।
তৃণমূল জমানায় বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী সোনালী ওঝার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা হয়েছিল। এদিন সোনালী দেবী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব। এই মিথ্যে মামলা লড়ার জন্য সারা দিন কোর্টে পড়ে থাকতে হয়েছে।