Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একই প্রকল্পের জন্য পৃথক সুপারিশ আটকাতে সমন্বয়ের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

একই প্রকল্পের জন্য আলাদা আলাদা সুপারিশ আটকাতে সমস্ত সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

একই প্রকল্পের জন্য পৃথক সুপারিশ আটকাতে সমন্বয়ের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: একই প্রকল্পের জন্য আলাদা আলাদা সুপারিশ আটকাতে সমস্ত সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বাঁকুড়া জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী যোগ দেন। ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেন।

Advertisement

পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের তরফে কোনো প্রকল্প নেওয়ার পর অন্য দপ্তরও যাতে একই প্রকল্পের প্রস্তাব রাজ্যের কাছে না পাঠায়, সেটা দেখার জন্য বলা হয়েছে। একই কাজে দু’বার টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে যে দুর্নীতি হয়-তা বন্ধের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো আমরা বিধায়ক সহ অন্য জনপ্রতিনিধিদের থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রকল্পের প্রস্তাব নেব। তারপর সমস্ত লাইন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করব। একই প্রকল্পের প্রস্তাব পৃথকভাবে রাজ্যে পৌঁছানো আটকাতে এই পদক্ষেপ করা হবে।
একই প্রকল্পকে দু’বার দেখিয়ে কীভাবে দুর্নীতি করা হয়? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক বিডিও বলেন, ধরা যাক, ১২৫দিনের কাজের প্রকল্পের আওতায় কোনো রাস্তা কংক্রিটের করা হবে। প্রথমে রাস্তাটি একটি জায়গা থেকে শুরু ও অপর জায়গায় শেষ দেখিয়ে প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়। সাধারণত কারও বাড়ি বা মন্দিরকে শুরু ও শেষের পয়েন্ট হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। সেইমতো এস্টিমেট ও টাকা বরাদ্দ হয়। পরবর্তীকালে শেষের পয়েন্টকে শুরু ও শুরুর পয়েন্টকে শেষ দেখিয়ে পৃথক প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়ে অন্য কোনো দপ্তর থেকে টাকা বরাদ্দ করিয়ে নেওয়া হয়। এভাবেই চলে পুকুর চুরি। ধরা পড়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ একই রাস্তার মাঝের দু’টি জায়গার নাম উল্লেখ করে সেটিকে নতুন প্রকল্প হিসাবে দেখিয়ে থাকে। প্রকল্পের জিও ট্যাগিং শুরু হওয়ার পর থেকে এধরনের দুর্নীতি অনেক কমে গিয়েছে। তারপরও যাতে কেউ এমন কাজ করতে না পারে, সেজন্য মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে সতর্ক করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি ব্লকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ১০টি করে নতুন ভবন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ভাড়াবাড়িতে চলে, এমন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি এবার পাকা ছাদ পেতে চলেছে। মুকুটমণিপুরে ‘মিনি জু’ তৈরির কাজ তাড়াতাড়ি শুরুর জন্যও মুখ্যমন্ত্রী বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। জেলাশাসক বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে বনদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। সেটা মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ