Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আলুর চাষ ও বিপণনে প্রস্তাব চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী, আজ সিঙ্গুরে জরুরি বৈঠকে বিজেপি বিধায়করা

আলুর চাষ ও বিপণনের জন্য প্রস্তাব চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ সিঙ্গুরে জরুরি বৈঠক। কৃষকদের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

আলুর চাষ ও বিপণনে প্রস্তাব চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী, আজ সিঙ্গুরে জরুরি বৈঠকে বিজেপি বিধায়করা
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আলুর চাষ ও বিপনণের জন্য প্রস্তাব চাইলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশের পরই  জরুরি বৈঠকে বসছেন বিজেপি বিধায়করা। তাতে থাকবেন আরামবাগ মহকুমার বিধায়করাও। আজ, বুধবারই সিঙ্গুরে ওই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার তারকেশ্বরে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে আসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধায়কদের দাবি, সেখানেই আলু চাষের উন্নতির জন্য প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আলু চাষ ও তার বিপণন নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৬ জুনের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। সেইজন্য আলু চাষ রয়েছে এমন হুগলি জেলার বিধানসভার বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করব। আজ, সিঙ্গুরে ওই বৈঠক হবে। বৈঠক থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে পরের দিনই জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তারপর তা চূড়ান্ত করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব আকারে পেশ করব। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে এই প্রস্তাব প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেইমতো প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

Advertisement

গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক প্রশান্ত দিগার বলেন, হুগলির বেশিরভাগ এলাকা কৃষি প্রধান। ফসলের মধ্যে আলু অন্যতম। চলতি বছরে আলু চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আগামী দিনে যাতে এই ধরনের পরিস্থিতি যাতে না হয়, তারজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে চাইছে সরকার। চাষিরা যাতে দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা পান সেইজন্য রাসায়নিক সারের বন্টণ ব্যবস্থা, আলু বীজ উৎপাদনের পরিকল্পনা প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করব। তারসঙ্গে বিপণনের বিষয়টি নিয়েও আমরা জোর দিতে চাই। কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পান, তাতেও আমরা নজর দিতে চাই। 
জানা গিয়েছে, চলতি মাসেই রাজ্য বাজেট হতে চলেছে। সেইজন্য বিধায়কদের কাছ থেকে আগাম প্রস্তাব নিয়ে সেগুলির উপর পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে রাজ্য। আলু চাষ নিয়ে রাজ্যের তরফে কোনো বিশেষ ঘোষণাও হতে পারে বলে বিধায়করা আশা করছেন। 
উল্লেখ্য, হুগলি জেলার পাশাপাশি আরামবাগ মহকুমার চারটি বিধানসভাতেই আলু চাষ হয়ে থাকে। প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে এবারও। আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল ও পুরশুড়া বিধানসভায় ভিন্ন প্রজাতির আলু চাষ হয়। তার সঙ্গে মহকুমা এলাকায় অনেকগুলি হিমঘরও রয়েছে। মাঠ থেকে আলু তোলার পর হিমঘরে আলু রাখেন চাষিরা। আলুকে কেন্দ্র করে মহকুমায় অর্থনীতি গড়ে ওঠে। চলতি বছরে আলুর রেকর্ড ফলন হয়। কিন্তু এবার আলুর দাম না মেলায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার চাষি। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, প্রতি বছর সার, বীজে কালোবাজারি চলত। আলুর বস্তার দামেও কালোবাজারি হয়েছে।  
বিধায়ক বিমানবাবু বলেন, আলু চাষ ও তার বিপণন নিয়ে বিগত তৃণমূল সরকার চাষিদের বঞ্চিত করেছে। আমরা চাই সঠিক নীতির মাধ্যমে আলু চাষ ও বাণিজ্যের উন্নয়ন।

সম্পর্কিত সংবাদ