নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্ররক্ষার আন্দোলনে অংশ নিয়ে জেলে যাওয়া রাজ্যের ৩২৫ জন ‘লোকতন্ত্র সেনানীকে’ রবিবার তাম্রপত্র দিয়ে সংবর্ধনা দিল রাজ্য সরকার। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। তাঁরা পাবেন মাসে ১০ হাজার টাকার সাম্মানিক ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্মূল্যের বাজারে এটা খুবই সামান্য। তবু তাঁদের এই সম্মানটুকু দিতে পেরে আমরা সম্মানিত বোধ করছি। রাজ্যে এখন যে সরকার চলছে, তা আপনাদের আন্দোলনের ফলেই তৈরি হয়েছে। আপনাদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া উচিত। লোকতন্ত্র সেনানী সংঘের বিভিন্ন পরামর্শ রাজ্য সরকার আগামী দিনেও গ্রহণ করার চেষ্টা করবে। আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর।
শুভেন্দুর এদিনের ভাষণে ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের পূর্ববর্তী সরকারগুলি শ্যামাপ্রসাদকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমরা এখন তাঁর চিন্তাধারা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। তাঁর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গঠিত কমিটি ১৩ আগস্ট প্রথম বৈঠকে বসবে। পাঠ্যসূচির সিলেবাসে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রামাণ্য দলিল নিয়ে পুস্তক প্রকাশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আগামী দিনে নেওয়া হবে। রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হয়েছে। বের করে দেওয়া হয়েছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের। তাঁর সরকারের এরকম বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চান, উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহ্য, সংস্কৃতিও বজায় থাকুক। সেই পথেই হাঁটছে আমাদের সরকার। রাষ্ট্রবাদ, সনাতনী সংস্কৃতি প্রভৃতি মুছে ফেলার যে চেষ্টা আগে হয়েছিল তা থেকে রাজ্যকে ফেরাতে চাইছি আমরা। এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, তথ্যসংস্কৃতি মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসইউসির রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য বলেন, ইতিহাস বলে যে আরএসএস নেতাদের অনেকেই মুচলেকা দিয়ে নিজেদের মুক্তি চেয়েছিলেন। তাছাড়া আজ বিজেপি সরকার দেশে যেভাবে গণতন্ত্র হত্যা করছে তা অঘোষিত জরুরি অবস্থা ছাড়া কিছু নয়। তাদেরই লোকতন্ত্র সেনানী নাম দিয়ে জনগণের করের টাকায় পুরস্কার প্রদান গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার।