নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর মরশুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কোনো হকার উচ্ছেদ হবে না। হকার সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে এমনই আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছেন। শনিবার এই দাবি করেছেন হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির রাজ্য সভাপতি অসিত সাহা। তাঁর কথায়, ‘অক্টোবর মাস অর্থাৎ উৎসবের মরশুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ করা হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। এর ফলে আপাতত কিছুটা স্বস্তিতে রাজ্যের হাজার হাজার হকার পরিবার।’ প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই কলকাতা পুরসভার তরফে শিয়ালদহ বিদ্যাপতি সেতু এবং যাদবপুরের সুকান্ত সেতুর নীচে থাকা হকারদের উচ্ছেদ করার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। শিয়ালদহ নিয়ে আদালত আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করলেও, চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন যাদবপুর-সন্তোষপুর হকার্স মার্কেটের দোকানদাররা। তাঁরাও ইতিমধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই চাপানউতোরের মাঝে হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির সভাপতির ওই দাবি সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বস্তি দিয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, পুজোর মরশুম পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ বন্ধ রাখার একটা ইঙ্গিত প্রশাসনের সর্বোচ্চস্তর থেকে মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনাও চলছে। কাল, সোমবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ওই সূত্রটি জানিয়েছে। রাজ্যে পালবদলের পরই সরকারি জমি থেকে জবরদখল হটানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। অবৈধ নির্মাণ, দোকান, জবরদখলকারী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ঝুপড়ি, বসতির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলছে। জবরদখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে স্টেশন ও রেলের জমিতেও। উচ্ছেদের জেরে জীবন-জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলেন হকাররা। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর ওই আশ্বাস তাঁদের মনোবল বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির রাজ্য সভাপতি অসিতবাবু বলেন, ‘জনতার দরবারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আরজি জানাই। বরাবরই উৎসবের মরশুমের কেনাবেচার উপর হকারদের নির্ভর করতে হয়। এখন তাঁদের উচ্ছেদ করলে, পরিবার সমেত ঘোর অনিশ্চয়তার পড়তে হবে সবাইকে। মানবিক মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, উৎসবের মরশুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো উচ্ছেদ হবে না।’ অসিতবাবুর কথায়, ‘এরই পাশাপাশি কেন্দ্রীয় আইন ‘দ্য স্ট্রিট ভেন্ডার্স (প্রোটেকশন অব লাইভলিহুড অ্যান্ড রেগুলেশন অব স্ট্রিট ভেন্ডিং) অ্যাক্ট, ২০১৪ প্রণয়নের জন্য রাজ্যব্যাপী মনিটরিং কমিটি গঠন করার দাবিও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হয়েছে। হকারদের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে পদক্ষেপ করবেন বলে বিশ্বাস।’