নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলার গোডাউন বিপর্যয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে উদ্ধারকারীদের যৌথ টিম। সেনাবাহিনী, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা এজেন্সিগুলির সম্মিলিত প্রয়াসে দুর্ঘটনা কবলিত স্থান থেকে ১৭টি প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। এই কৃতিত্বকে কুর্নিশ জানাতে শনিবার এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে কলকাতা পুলিশ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্ধারকারীদের শংসাপত্র প্রদানের পাশাপাশি আগামী দিনে বিপর্যয় রুখতে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ)-এর ধাঁচে কলকাতায় একটি বিপর্যয় মোকাবিলা দল তৈরির কথা ঘোষণা করেন তিনি। অত্যাধুনকি যন্ত্রপাতি ও দক্ষ কর্মীদের নিয়ে গঠিত হবে সেই দল। এর জন্য এনডিআরএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের থেকে পরামর্শ নেবে রাজ্য। সূত্রের খবর, এই বিপর্যয় মোকাবিলা দল তৈরির জন্য এনডিআরএফ এবং সিভিল ডিফেন্সের কয়েকজন দক্ষ আধিকারিককে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে পারে রাজ্য সরকার।
গত ২৪ জুন তারাতলা থানা এলাকার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের একটি নির্মীয়মাণ তিনতলা গোডাউন ভেঙে পড়ে। আটকে পড়েন ৩২ জন শ্রমিক ও একজন কন্ট্রাক্টর। সব মিলিয়ে মৃত্যু হয় ১৬ জনের। উদ্ধারকাজে নামে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল, কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ, কলকাতা পুরসভাসহ একাধিক সরকারি এজেন্সির যৌথ উদ্ধারকারী দল। তাদের উদ্যোগে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধাকারীদের সংবর্ধনা দিতে এদিন তাঁদের আলিপুর বডিগার্ড লাইনসে আমন্ত্রণ জানানো হয় রাজ্য সরকারের তরফে। মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারাতলা বিপর্যয়ে উদ্ধারকারীদের যৌথ টিম যে কাজ করেছে, তাকে স্যালুট জানাই। ওঁরা ১৭ জন শ্রমিকের জীবন বাঁচিয়েছেন। কলকাতায় আগেও এধরনের বহু বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্য এজেন্সিগুলির যৌথ প্রয়াসে এভাবে উদ্ধারকাজ হয়নি। এরকম কোনো বিপর্যয় রাজ্যে আর না আসুক। কিন্তু যদি দুর্ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে এখন থেকে রাজ্য সরকারের অনুমোদনে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ টিমই কাজ করবে।’ বিভিন্ন সরকারি এজেন্সির কর্তাদের হাতে এদিন শংসাপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
নয়া বিপর্যয় মোকাবিলা দল তৈরির পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্স টিমও তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তারাতলার ঘটনায় উদ্ধারকাজে প্রথম হাত লাগানো স্থানীয় মানুষদেরও কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলাকাবাসীর কৃতিত্বও কোনো অংশে কম নয়। আমি একদিন তারাতলায় গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের অভিনন্দন জানাব।’