Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ছট উপলক্ষ্যে সাজছে শিল্পাঞ্চল, শহরের ঘাটেও নজরদারি 

ছট উপলক্ষ্যে সাজছে শিল্পাঞ্চল, শহরের ঘাটেও নজরদারি 
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ছটপুজো উপলক্ষ্যে শহর-শহরতলির বিভিন্ন ঘাটে সরকারি তরফে নানা আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার, ছটের আগের দিন কলকাতা পুরসভার তরফে তক্তাঘাট ও দইঘাটের আয়োজন খতিয়ে দেখা হয়। পুরসভা সূত্রে খবর, ছটের আয়োজনে ৩০ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। লালবাজার জানিয়েছে, ছটের সময় মাইক্রোফোন, ডিজে ব্যবহার করা যাবে না। বিকেল ছ’টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাজি ফাটানো যাবে। তবে, নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাটে ঘাটে পুলিসি পাহারা ও বিভিন্ন রাস্তায় থাকছে বিশেষ পিকেট। 
Advertisement
বারাকপুর শিল্পাঞ্চলজুড়ে উৎসবের চেহারা। ৭৯টি গঙ্গার ঘাট সহ ১৩৫টি জায়গায় ছটের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সেরেছে প্রশাসন। বুধবার জেলাশাসক পুলিস কমিশনার সহ প্রাশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বজবজ ও মহেশতলা, পুজালি সহ আলিপুর মহকুমার ছোট ও বড় মিলিয়ে ৩৫-৩৬টি গঙ্গার ঘাটকে পুজোর উপযোগী করে সাজানো হয়েছে। ঘাটে বাঁশের ব্যারিকেড করা হয়েছে। কাঠের পাটাতন দিয়ে সিঁড়ি করা হয়েছে। ঘাটগুলির পাশে পোশাক পাল্টানোর জন্য অস্থায়ী চেঞ্জিং রুম তৈরি হয়েছে। শৌচাগারও করা হয়েছে। তবে মূলত পাঁচটি ঘাটে সবচেয়ে বেশি ভিড় হবে ধরেই সেখানকার নজরদারিতে জোর দেওয়া হয়েছে। বজবজ পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্ত বলেন, বিবি গ্রাউন্ডে ভিড় হয় সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বজবজ থানা ঘাট, বালি ঘাট, চিভিয়্যাট জুটমিলে ভিড় হয়। এজন্য কলকাতা পুলিস ও বজবজ এবং মহেশতলা, পুজালি থানার পুলিস নজরদারি করছে। ঘাটগুলির বাইরে জল পুলিস, রিভার ট্রাফিক পুলিস বোট নিয়ে থাকছে। এই কাজে পুরসভার ৪৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। 
পাশাপাশি, ছটপুজোয় উপলক্ষ্যে সবরকম প্রস্ততি নিয়েছে উলুবেড়িয়া পুরসভা ও হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিস প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেলে উলুবেড়িয়া কালীবাড়ি ঘাট ছাড়াও ফুলেশ্বর জগন্নাথপুর বিবির চড়া ঘাট, চেঙ্গাইলের নেপালি ঘাট এবং বাউড়িয়ার তিনটি ঘাটে পুজো দেবেন পুণ্যার্থীরা। ইতিমধ্যে পুরসভার পক্ষ থেকে প্রতিটি ঘাট পরিষ্কার করা ছাড়াও পর্যাপ্ত আলো, পানীয় জল ও শৌচালয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উলুবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান অভয় দাস ও ভাইস চেয়ারম্যান ইনামুর রহমান জানান, প্রতিটি ঘাটে পুরসভার সাফাই কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। হাওড়া জেলা পুলিসের এক কর্তা জানান প্রতিটি ঘাটে পর্যাপ্ত পুলিস ছাড়াও ঘাটগুলিতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সিভিল ডিফেন্স থাকছে। 
অন্যদিকে, জেলার হিন্দি বলয়ে রিষড়া, চাঁপদানি, বৈদ্যবাটি, উত্তরপাড়া, কোন্ননগর, চন্দননগর, আংশিক চুঁচুড়া ও ব্যান্ডেলে ছটপুজো হয়। চনন্দনগর কমিশনারেটের অধীনে গঙ্গা সহ জেলার ৯৭টি ঘাটে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। তার মধ্যে ৪৪টি ঘাটে বেশি ভিড় হয়। ইতিমধ্যেই সমস্ত ঘাটে আলোর ব্যবস্থা হয়েছে। চন্দননগর এবং ভদ্রেশ্বরে ছট ও জগদ্ধাত্রী পুজো এক সঙ্গে পড়েছে। তাই বাড়তি ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিস কমিশনার অমিত পি জাভালগি। 
ছট উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার শহরের জোড়া মেট্রো রুটে পরিষেবা কমবে। কবি সুভাষ-দক্ষিণেশ্বর রুটে ৫২টি মেট্রো পরিষেবা কম পাবেন যাত্রীরা। শিয়ালদহ থেকে সেক্টর ফাইভ মেট্রোয় ১৬টি পরিষেবা কমবে।
সম্পর্কিত সংবাদ