নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিগত ছ’মাসে পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন হাসপাতালে সদ্যোজাতর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্যদপ্তর। এই কয়েক মাসে ১০৪জন সদ্যোজাত বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গিয়েছে। কী কারণে এমনটা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে স্বাস্থ্যদপ্তর। এখন ঘরে প্রসব করানোর প্রবণতা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রসূতিদের হাসপাতালে আনা হয়। তারপরও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় আধিকারিকদের চিন্তা বেড়েছে। জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে শিশু মৃত্যু হতে পারে। সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Advertisement
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় এক সময় প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কয়েকজন প্রসূতি মারা যান। কর্তৃপক্ষ কয়েকজন চিকিৎসকের গাফিলতিকে এর জন্য দায়ী করেন। অন্যদিকে, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি অডিওতে এক চিকিৎসক এর জন্য কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। এব্যাপারে এক আধিকারিক বলেন, দায় ঠেলাঠেলি বন্ধ করে উন্নত পরিষেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকও রয়েছে। তারপরও কেন সদ্যোজাত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের পরিকাঠামো উন্নত হওয়ায় বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং পশ্চিম বর্ধমান থেকেও বহু অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসার জন্য রেফার করে এখানে পাঠানো হয়। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, শিশু মৃত্যুর বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। কোথাও কোনও গাফিলতি থাকছে কি না সেটা খোঁজ নিতে বলা হচ্ছে।



