নয়াদিল্লি ও লখনউ: শুধু মহারাষ্ট্র-ঝাড়খণ্ডে ভোট নয়, বুধবার উপ নির্বাচন হল উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব ও কেরলের ১৫টি বিধানসভা আসনেও। তার মধ্যে ৯টি আসনই যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে। আর সেই ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল দিনভর। ছাপ্পাভোটে মদত থেকে ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল যোগীর পুলিসের বিরুদ্ধে। এমনকী মীরাপুর বিধানসভা এলাকায় কাকরোলি থানার এসএইচও রাজীব শর্মাকে পিস্তল উঁচিয়ে মহিলা ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দিতেও দেখা যায়। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব স্বয়ং সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। তাতে রাজীব শর্মাকে ধমক দিতে শোনা গিয়েছে, ‘ভোট দিতে দেওয়া যাবে না। আমার কাছে এবিষয়ে সরকারি নির্দেশ রয়েছে।’ সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের নির্দেশে গাইডলাইন অমান্য করার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয় অভিযুক্ত সাত পুলিসকর্মীকে। এসব সত্ত্বেও উত্তরপ্রদেশের উপ নির্বাচনে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৯.৩ শতাংশ।
Advertisement
এদিন বেলা বাড়তেই শাসকদল বিজেপির দাবি তোলে, অনিয়ম ঠেকাতে বুথে বুথে বোরখা পরা ভোটারদের পরিচিতি খতিয়ে দেখতে হবে। গুরুতর অভিযোগ তোলেন বিজেপির জোটসঙ্গী আরএলডির মীরাপুর কেন্দ্রের প্রার্থী মিথলেশ পালও— বহিরাগতদের রাখা হয়েছে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও মসজিদে। তাদের বোরখা পরিয়ে ছাপ্পা ভোট চলছে। পাল্টা আসরে নামেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা অখিলেশ যাদব। সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের কাছে একযোগে অভিযোগ জানান, ‘উপ নির্বাচনে হারের ভয়ে সরকারি মেশিনারির অপব্যবহার করছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। একটি সুনির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোটদানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পুলিস তাঁদের রাস্তা আটকাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। মদত দিচ্ছে ছাপ্পা ভোটে। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এক্তিয়ার বহির্ভূতভাবে ভোটারদের আধার ও ভোটার কার্ড পরীক্ষা করছে পুলিস।’ গোটা ঘটনায় মুখ পুড়েছে আদিত্যনাথের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের। যদিও বিজেপির দাবি, মীরাপুর আসনের কাকরোলি গ্রামে দু’দলের সংঘাতে পাথর ছোড়ার ঘটনার জেরেই এসএইচও এই কাজ করেছেন।



