


হায়দরাবাদ: আইপিএলে জয়ের হ্যাটট্রিক করে ফেলল সানরাইজার্স। রাজস্থান রয়্যালস, চেন্নাই সুপার কিংসের পর মঙ্গলবার দিল্লি ক্যাপিটালসকে দাপটে হারিয়েছে ঈশান কিষান ব্রিগেড। এই জয়ের নেপথ্যে বড়ো অবদান অভিষেক শর্মার। ৬৮ বলে তাঁর অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংসই পার্থক্য গড়ে দেয়। পরিষ্কার, টি-২০ বিশ্বকাপের দুঃসময় কাটিয়ে উঠেছেন বাঁ হাতি ওপেনার। ৭ ইনিংসে ৫৩.৮৩ গড়ে সংগ্রহে ৩২৩ রান। স্ট্রাইক রেট অবিশ্বাস্য ২১৫.৩৩। অরেঞ্জ ক্যাপের মালিকও এখন তিনি।
অভিষেকের প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত শোনাচ্ছে ক্রিকেটমহল। চেতেশ্বর পূজারার কথায়, ‘ওর ব্যাট করার ধরনে শতরানও সহজ মনে হল। সানরাইজার্সের হয়ে ওর রানগুলো মূল্যবান। কারণ ও রান পেলে দল জেতে। অভিষেক হল স্পেশাল ট্যালেন্ট। মেজাজে থাকলে ব্যাটসম্যান হিসেবে ওর জাত সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’
সানরাইজার্সের বোলিং কোচ বরুণ অ্যারণও মুগ্ধ। তাঁর কথায়, ‘ওর মধ্যে পরিণত মানসিকতা আগেও দেখেছি। না হলে বিশ্বের এক নম্বর টি-২০ ব্যাটসম্যান হওয়া যায় না। তবে বিপক্ষ এবং পিচ যাচাই করে ও কীভাবে ব্যাট করবে তা ঠিক করে। এই ম্যাচের উইকেট প্রথম বল থেকেই চালানোর মতো ছিল না। বিপক্ষ ও উইকেট বুঝে চালানোর দরকার ছিল। আর অভিষেক ঠিক সেটাই করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঝুঁকি নিয়ে মারার ক্ষমতা ওর রয়েছে। তাই সবদিন রান পাওয়া সম্ভব নয়। সেটুকু ছাড় ওর প্রাপ্য।’
স্বয়ং অভিষেক অবশ্য পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন কথাতেও। বলেছেন, ‘যেভাবে শুরু করেছিলাম, তা পালটাতে বাধ্য হই। কারণ, উইকেট সামান্য মন্থর ছিল। ফলে পরিকল্পনায় রদবদল ঘটাতে হয়। জেতার জন্য কত রান যথেষ্ট তা বোঝা যাচ্ছিল না। আমি টিকে থাকতে চাইছিলাম। পাশাপাশি, ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দ দেওয়াও ছিল উদ্দেশ্য। আর আমি বরাবরই আক্রমণাত্মক খেলতে ভালোবাসি। আর দলের কোচ ও ক্যাপ্টেনকে ধন্যবাদ, ওদের জন্যই এভাবে খেলতে পারি।’
গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন অভিষেকের বাবা-মা। তাঁদের জন্য ম্যাচের সেরা বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায় থেকেই বাবাকে বরাবর সাইটস্ক্রিনের পাশে বসে থাকতে দেখেছি। কীভাবে আমাকে খেলতে হবে, সেটা সবসময় গাইড করেন উনি। ক্যামেরা যদি সবসময় ওঁর দিকে ফোকাস করা থাকে, তবে সেটা রীতিমতো মজার হয়ে উঠবে।’