Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চেক কেলেঙ্কারি: সই প্রমাণে হাজিরা দিতে মহারাষ্ট্রে পরেশ, বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যানের নাম ঘিরে বিতর্ক

বর্ধমান পুরসভার চেক কেলেঙ্কারির ঘটনায় মহারাষ্ট্র পুলিশ চেয়ারম্যান পরেশ সরকারকে নোটিশ করেছিল। ১৫দিনের মধ্যে তাঁকে সেখানে যেতে বলা হয়।

চেক কেলেঙ্কারি: সই প্রমাণে হাজিরা দিতে মহারাষ্ট্রে পরেশ, বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যানের নাম ঘিরে বিতর্ক
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান পুরসভার চেক কেলেঙ্কারির ঘটনায় মহারাষ্ট্র পুলিশ চেয়ারম্যান পরেশ সরকারকে নোটিশ করেছিল। ১৫দিনের মধ্যে তাঁকে সেখানে যেতে বলা হয়। সেইমতো তদন্তে সহযোগিতা করতে সোমবার মহারাষ্ট্রের উদ্দেশে তিনি রওনা দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা ব্যাঙ্কে যে চেক জমা করেছিল, তাতে চেয়ারম্যানের সই করা ছিল। সেটা আদৌ তাঁর সই কি না, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখবেন। পরেশবাবুকে এদিন ফোনে পাওয়া যায়নি। কেসের আইনজীবী স্বরাজ ঘোষ বলেন, তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য চেয়ারম্যান মহারাষ্ট্রে গিয়েছেন।

Advertisement

এর আগে মহরাষ্ট্র পুলিশ এই ঘটনায় অর্থদপ্তরের এক অস্থায়ী আধিকারিককে গ্রেফতার করেছিল। তাকে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুরসভার দু’টি চেক ব্যবহার করে প্রতারকরা ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা হাতানোর চেষ্টা করে। চেক দু’টি স্বর্ণবিপণী সংস্থার মাধ্যমে ইশ্যু করা হয়েছিল। ওই দু’টি চেকে পুরসভার চেয়ারম্যানের নামে সই করা হয়েছিল। যদিও পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, চেকে চেয়ারম্যানের সই থাকার কথা নয়। প্রতারকরা তা ক্লোন করেছিল। মহারাষ্ট্র পুলিশ ঘটনার শিকড়ে পৌঁছতে চাইছে। বর্ধমান পুরসভা তাদের সবরকমভাবে সহযোগিতা করছে। গ্রেফতার করার আগে অর্থদপ্তরের ওই আধিকারিককে মহারাষ্ট্র পুলিশ একাধিকবার তলব করে। সে প্রতিবারই তদন্তে সহযোগিতা করে। তারপরও তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীরা দাবি করেন, চেক ইশ্যু করার আগে ওই আধিকারিককে ব্যাঙ্ক থেকে ফোন করা হয়। সে সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার পরই স্বর্ণবিপণী সংস্থার নামে চেক ইশ্যু করা হয়েছিল। যদিও ওই আধিকারিক গ্রেফতারির আগে দাবি করে, সে ব্যাঙ্ক থেকে ফোন পায়নি। ফোন নম্বরটিও ক্লোন করা হয়েছিল।
 পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, চেক ইশ্যু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। সেইমতো ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বর্ধমান পুরসভা টাকা ফেরত পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু পুরো ঘটনার তদন্তের জন্য ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ মহারাষ্ট্র সাইবার ক্রা‌ই঩মে অভিযোগ করে। তারপরই সেরাজ্যের পুলিশ তদন্তে নামে। এর আগে তদন্তকারীরা পুরসভার আধিকারিকদের জেরা করেছেন। তবে, পুরসভার চেয়ারম্যানকে তলব করার পরই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এক আধিকারিক বলেন, এই ঘটনায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও নিজের দায় এড়াতে পারে না। কোনও চেক ইশ্যু করার আগে একাধিকবার যাচাই করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কেন সেটা হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চেয়ারম্যান অবশ্য নোটিশ পাওয়ার পর জানিয়েছিলেন, পুর কর্তৃপক্ষও চায় পুরো ঘটনার তদন্ত হোক। সেই কারণে পুলিশ যতবার তলব করবে ততবারই তাদের সহযোগিতা করা হবে। প্রতারকরা তাঁর সই ক্লোন করেছিল বলে তিনি প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ