


চেন্নাই: টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার এইটে মরণ-বাঁচন ম্যাচে অপরাজিত ৯৭, সেমি-ফাইনালে ৮৯ এবং ফাইনালেও ৮৯। কার্যত একা হাতেই মাসখানেক আগে ভারতকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু, সেঞ্চুরি আসেনি কাছাকাছি পৌঁছেও। সেই আক্ষেপ আইপিএলে মিটিয়ে নিলেন তারকা উইকেটরক্ষক ব্যাটার। শনিবার স্যামসনের দুরন্ত শতরানে ভর করে চলতি কোটিপতি লিগে প্রথম জয় তুলে নিল চেন্নাই সুপার কিংস। চিপকে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ২৩ রানে বশ মানিয়েছে হলুদ জার্সিধারীরা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে সিএসকে’র সংগ্রহ ২ উইকেটে ২১২। সৌজন্যে, ১৫টি চার ও ৪টি ছক্কা সহ ৫৬ বলে সঞ্জুর অপরাজিত ১১৫ রানের অনবদ্য ইনিংস। জবাবে দিল্লি থামে ১৮৯ রানে।
রাজস্থান রয়্যালস ছেড়ে সঞ্জুর ঠিকানা এবার চেন্নাই সুপার কিংস। অনেকেই তাঁকে মহেন্দ্র সিং ধোনির যোগ্য উত্তরসূরি ভাবছেন। অবশ্য চলতি মরশুমে প্রথম তিনটি ম্যাচেই ব্যর্থ তিনি। তাতে করেন যথাক্রমে ৯, ৭ ও ৬। ফলে প্রশ্ন উঠছিল তাঁকে নিয়ে। তবে শনিবার স্বমহিমায় দেখা গেল ৩১ বছর বয়সি তারকাকে। ইনিংসের শুরুতে অবশ্য কিছুটা সতর্ক ছিলেন তিনি। তবে ক্রিজে সেট হওয়ার পর দিল্লির বোলারদের রীতিমতো শাসন করলেন। ঋতুরাজের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে তোলেন ৬২। তারমধ্যে ক্যাপ্টেনের অবদান মাত্র ১৫ রান। এরপর তিনে নামা আয়ূষ মাত্রেকে নিয়ে বড় স্কোরের পথ প্রশস্ত করেন সঞ্জু। এই জুটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১১৩। ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা সহ ৩৬ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে রিটায়ার্ড হার্ট হন আয়ূষ। তবে সঞ্জু থামেননি। ২৬ বলে অর্ধশতরানের পর তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে নেন ৫২টি ডেলিভারি। অপরাজিত ১১৫ আসে তাঁর ব্যাটে। আইপিএলের ইতিহাসে এটা তাঁর চতুর্থ শতরান। প্রশংসা করতে হবে শিবম দুবেরও। ২টি চার ও ১টি ছক্কা সহ ১০ বলে অপরাজিত ২০ রানের ইনিংসে স্কোরবোর্ড দুশোর ওপারে নিয়ে যান তিনি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি দিল্লি। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৬১। তবে দুই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা (৪১) ও লোকেশ রাহুল (১৮) আউট হতেই চাপে পড়ে যায় রাজধানীর ফ্র্যাঞ্চাইজি। এরপর সমীর রিজভি (৬), অক্ষর প্যাটেল (১) ডেভিড মিলার (১৭) ও আশুতোষ শর্মারাও (১৯) বড় রান পাননি। স্ট্রিস্টান স্টাবস শেষ দিকে অবশ্য ৩৮ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলেন। তবে ১৮ তম ওভারে এই প্রোটিয়া ব্যাটার আউট হতেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে যায়। উল্লেখ্য, চিপকে জয়ের পর পয়েন্ট টেবিলে নবম স্থানে উঠে এল চেন্নাই (২ পয়েন্ট)। আর সবার তলানিতে রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (১ পয়েন্ট)।