নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আন্দোলনে অনড় চুঁচুড়ার অস্থায়ী পুরকর্মীরা। তাঁদের সাফ কথা, বকেয়া ভাতা না মেটানো পর্যন্ত তাঁরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন। তাঁদের এই কর্মবিরতি মঙ্গলবার ১০ দিনে পড়েছে। এই দশদিন ধরে যাবতীয় নাগরিক পরিষেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে। সাফাইকাজ না হওয়ায় গোটা শহর যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এই অচলাবস্থার কারণে পুরকর্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। এবার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকেও ছাড় দিচ্ছে না আম জনতা। শাসকদলের নেতাদের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূলের হুগলি-শ্রীরামপুর জেলার সহ সভাপতি অসিত মজুমদার নিজেই চুঁচুড়ার বিধায়ক। নাগরিক পরিষেবা নিয়ে তিনি দলের অন্দরে বরাবরই সোচ্চার। এই পরিস্থিতিতে তাঁর কী ভূমিকা, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। মঙ্গলবার পুরকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসলেও কোনও সমাধান সূত্র বেরয়নি। ফলে, শহরের রাস্তায় কবে ঝাঁটা পড়বে, কবে শহর জঞ্জাল মুক্ত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
Advertisement
তৃণমূল নেতা অসিত মজুমদার বলেন, নাগরিক পরিষেবা যাতে ফের চালু করা যায়, তা নিয়ে দলের তরফে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার সমাধান সূত্র খুঁজতে নানাস্তরে আলাপ আলোচনা চলছে। শাসকদল হাত গুটিয়ে বসে আছে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। আমরা সমস্যা মিটিয়ে ফেলব। চুঁচুড়া পুরসভার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সংগঠনের সহ সভাপতি অসীম অধিকারী বলেন, নানা কারণে কর্মী বঞ্চনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের এখন সংসার চালানোর টাকা নেই। বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে কর্মীদের ভাবনাকে অগ্রাহ্য করে দলের মত প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করা কোনও যুক্তিগ্রাহ্য পথ হতে পারে না। আমরা ভাতা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু তার জন্য সময় ও সহযোগিতা প্রয়োজন। মঙ্গলবারও আমরা আন্দোলনকারীদের ডেকেছিলাম। তাঁরা আগে বলেছিলেন, একমাসের ভাতা পেলে কাজে ফিরবেন। কিন্তু এদিন তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সমস্ত বকেয়া ভাতা একবারে দিতে হবে। তাহলেই তাঁরা কাজে যোগ দেবেন। ফলে, আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে। আমি নিয়মিত দলীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসনকে সমস্ত বিষয় জানাচ্ছি। চুঁচুড়া পুরসভার বাসিন্দা তথা আঞ্চলিক ইতিহাসের চর্চাকার সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১০ দিন হয়ে গেল কর্মী বিক্ষোভ চলছে। এতদিনেও কেন এই সমস্যা মেটাতে পারলেন না পুরকর্তারা? আবর্জনার স্তূপে গোটা শহর ভাগাড় হয়ে উঠেছে। এই শহরে বাস করাই কঠিন হয়ে গিয়েছে। পুরসভা, প্রশাসন, সকলের উচিত নাগরিক সমস্যা মেটাতে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ করা। ১ ডিসেম্বর থেকে বকেয়া ভাতার দাবিতে টানা কর্মবিরতি শুরু করেছেন চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। ফলে শহরের সর্বত্র বিপুল আবর্জনার পাহাড় তৈরি হয়েছে। কুকুর, বিড়াল, গোরুর দাপটে সেসব রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে টোক দায়। সেইসঙ্গে মশা ও মাছির দাপটও তীব্র হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র



