নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দু’পাশে দুই প্রতিবেশীর বাড়ি। মাঝখানে কোনও সীমানা প্রাচীর বা বেড়া নেই। সীমানার কাছে বসেই হাঁসের খাবারের জন্য গেঁড়ি-গুগলির খোলস ছাড়াচ্ছিলেন এক প্রতিবেশী মহিলা। তা দেখেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন ‘রগচটা’ প্রতিবেশী সুনীল দেবনাথ। সীমানা নোংরা হচ্ছে কেন? সেখানে আবর্জনা ছড়ানোয় প্রতিবেশী মহিলা ও তাঁর ছেলেকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দিলেন সুনীল। রক্তাক্ত অবস্থায় মা সুভদ্রা বসু ও ছেলে সুরজিৎ বসু এখন চিকিৎসাধীন। বন্দুক সহ আটক করা হয় অভিযুক্তকে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার দুপুরে চুঁচুড়া শহরের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চুঁচুড়া শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ঝাঁপপুকুর এলাকায় সুনীল দেবনাথের বাড়ি। পাশের বাড়িতেই থাকেন সুভদ্রা বসু। সুনীল দেবনাথ একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। তাঁর কাছে একটি দোনলা বন্দুক রয়েছে। এলাকায় তিনি ‘রগচটা’ বলেই পরিচিত। কিছু হলেই প্রতিবেশীদের দিকে তেড়ে যান তিনি। এর আগেও নানা কারণে সুভদ্রাদেবীর উপর হামলা করতে গিয়েছেন সুনীল। সুরজিতের স্ত্রী রজনী বসু জানান, এদিন দুপুরে দুই বাড়ির মাঝে বসেই শাশুড়ি হাঁসের খাবারের জন্য গেঁড়ি-গুগলির খোলস ছাড়াচ্ছিলেন। তখন সুনীল একটি কাটারি নিয়ে হামলা করতে আসে। মাকে বাঁচানোর জন্য সুরজিৎ দৌড়ে যান। তখন কাটারি ফেলে দিয়ে সুনীল বাড়ির ভিতরে ঢুকে যায়। তারপর হঠাৎ ভিতর থেকে দোনলা বন্দুক নিয়ে এসে মা ও ছেলের দিকে তাক করে গুলি চালিয়ে দেন। ছররা গুলি লেগে জখম হন মা ও ছেলে। গুলির শব্দে অন্যান্য প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে চুঁচুড়া থানার পুলিস। অভিযুক্ত সুনীল দেবনাথকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেইসঙ্গে তাঁর বন্দুকটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, শুভদ্রাদেবী ও সুরজিৎকে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দোনলা বন্দুকটির লাইসেন্স ছিল কি না, তার কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুনীলের ছেলে ধ্রুবরাজ বলেন, প্রতিবেশীরা মাঝে মধ্যেই বাবাকে উত্ত্যক্ত করেন। তার জেরেই গুলি চলেছে।



