শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বারাসত মানেই কালীপুজোর আলোর মেলা। রাতভর মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল, চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা আর থিমের অভিনবত্বে প্রতি বছরই চর্চায় থাকে শহর। কিন্তু এবার দুর্গাপুজোর মণ্ডপেও যে চমকের ঝলকানি কম থাকবে না, তার ইঙ্গিত মিলছে। বারাসতের ডাকবাংলো মোড়ের কাছের চারের পল্লি দুর্গোৎসব কমিটি ৪৫ তম বর্ষে দর্শনার্থীদের সামনে দিল্লির বিখ্যাত বিড়লা মন্দিরকে তুলে ধরতে চলেছে। রাজধানীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী, উঁচু শিখর, অলংকৃত স্তম্ভ আর কারুকার্যময় দেওয়ালের সৌন্দর্য ধরা পড়বে বারাসতের মণ্ডপে।
দিল্লির লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের, যা বিড়লা মন্দির নামেই পরিচিত, স্থাপত্যের নিজস্ব জৌলুস রয়েছে। লাল ও হালকা রঙের পাথরের ব্যবহার, আকাশছোঁয়া শিখর, খোদাই করা স্তম্ভ এবং দেওয়ালের সূক্ষ্ম অলংকরণ মন্দিরটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচিতি। সেই সৌন্দর্যকে অবিকল মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলতে চাইছেন চারের পল্লির উদ্যোক্তারা। মণ্ডপের উচ্চতা প্রায় ৮০ ফুট। চওড়া ৬৫ ফুট। বিশাল কাঠামোই এবারের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে। রথযাত্রার পর থেকেই শুরু হয়েছে নির্মাণের কাজ। বাঁশ, কাঠামো আর ফাইবার ও শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে থিমের রূপরেখা।
তবে থিমের আড়ম্বরের মধ্যেও প্রতিমায় থাকছে সাবেকিয়ানা। বাঙালির দুর্গাপুজোর চিরচেনা আবেগকে ধরে রাখতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। থিমের চাকচিক্য থাকবে, কিন্তু হারিয়ে যাবে না পুজোর চিরন্তন অনুভূতি। চারের পল্লির পুজোর আরও একটি বড় আকর্ষণ তাদের বাড়ি-বাড়ি আলোকসজ্জা। অনেক পুজোয় আলোয় ঝলমল করে শুধু মণ্ডপ। কিন্তু এখানে আলোয় সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় এলাকার প্রতিটি বাড়িকেও। ফলে, সন্ধ্যা নামলেই গোটা পাড়া যেন বদলে যায় অন্য এক রূপে। মহালয়ার পর থেকেই সেজে ওঠে এলাকা। বাড়ির উঠোন থেকে রাস্তা, মণ্ডপ চত্বর থেকে আশপাশের এলাকা— সব মিলিয়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। এই উদ্যোগে জড়িয়ে পড়েন বাসিন্দারাও। পুজো তখন আর শুধু একটি কমিটির থাকে না, হয়ে ওঠে গোটা পাড়ার উৎসব।
পুজো কমিটির সহ সভাপতি রাহুল নাগ বলেন, ৪৫ তম বর্ষ আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। এবার দিল্লির বিড়লা মন্দিরকে বেছে নেওয়ার পিছনে সেই ভাবনাই রয়েছে। মন্দিরের স্থাপত্য ও সৌন্দর্য যতটা সম্ভব তুলে ধরতে চাইছি। রথের পর থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের আশা, মণ্ডপে ঢুকলে দর্শনার্থীরা অন্য রকম অনুভূতি পাবেন। পুজো কমিটির সভাপতি আশিস ভরদ্বাজের কথায়, চারের পল্লির পুজো শুধু একটি মণ্ডপের আয়োজন নয়। এর সঙ্গে এলাকার মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে। আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।