রাঁচি: হাতে হাতে উড়ছে জাতীয় পতাকা। প্ল্যাকার্ডগুলিতে বিভিন্ন দাবিদাওয়া-স্লোগান। পুলিশের একের পর এক ব্যারিকেড পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন অগণিত তরুণ-তরুণী। বিধানসভার অভিমুখে। জলকামানের তোড় অগ্রাহ্য করে তাঁরা দু’হাত তুলে নাচছেন। রাস্তার ধারে সার দিয়ে বসে গান ধরেছেন, ‘গাঁও ছোড়ব নাহি, জঙ্গল ছোড়ব নাহি/ মাই-মাটি ছোড়ব নাহি, লড়াই ছোড়ব নাহি’। তালে তালে চলছে হাততালি। ঝাড়খণ্ডে প্রতিবাদী পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ ‘বিধানসভা অভিযান’ তাল কাটল শেষ লগ্নে এসে। রাঁচিতে নব বিধানসভা ভবনের মাত্র ২০০ মিটার দূরে পুলিশের সর্বশেষ ব্যারিকেডের সামনে সোমবার তৈরি হল ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে ওই শেষ ব্যারিকেডটি পেরিয়ে প্রতিবাদীরা বিধানসভায় ঢোকার চেষ্টা করতেই মারমুখী হয়ে উঠল পুলিশ। চলল জলকামান, লাঠি, কাঁদানে গ্যাস। জখম হলেন একাধিক তরুণ-তরুণী। চোট পেলেন পুলিশকর্মীরাও। তবে দিল্লির যন্তরমন্তরের মতো পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ এক্ষেত্রে ওঠেনি। আর এদিনের এই অশান্তির মধ্যেই সরকারি চাকরির নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ঝাড়খণ্ড পিএসসি–র প্রাক্তন চেয়ারপার্সন এল খিয়াংটেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। জেপিএসসি-র তিন সদস্য ইস্তফা দেওয়ার পরের দিনই প্রাত্ন চেয়ারপার্সনকে গ্রেপ্তার করা হল। অতিরিক্ত ডিজি (সিআইডি) মনোজ কৌশিক এদিন খিয়াংটের গ্রেপ্তারির এই খবর জানিয়েছেন। ২২ জুলাই ইস্তফা দেওয়ার পর ২৮ জুলাইয়ে থেকে মোট চারবার খিয়াংটেকে জেরা করেথিল সিআইডি। এদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী সুদিব্য কুমারের অভিযোগ, বিজেপি তাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার স্বার্থে এই আন্দোলনকে ‘হাইজ্যাক’ করেছে। বিধানসভার বাইরে তিনি বলেন, সরকার চাকরিপ্রার্থীদের ৯৫ শতাংশ দাবি পূরণ করা সত্ত্বেও তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক।



