Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চণ্ডীতলায় ডোবা থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের কিনারা, পরকীয়ার জেরে যুবক খুন! ধৃত স্ত্রীর প্রেমিক

তিন দিন পর রহস্যের কিনারা। চণ্ডীতলা খুন কাণ্ডে প্রকাশ্যে এল পরকীয়া তত্ত্ব। শ্রীমন্ত পোড়া (৪৯) নামে ব্যক্তিকে খুনে তাঁর স্ত্রীর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করল চণ্ডীতলা থানার পুলিস।

চণ্ডীতলায় ডোবা থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের কিনারা, পরকীয়ার জেরে যুবক খুন! ধৃত স্ত্রীর প্রেমিক
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: তিন দিন পর রহস্যের কিনারা। চণ্ডীতলা খুন কাণ্ডে প্রকাশ্যে এল পরকীয়া তত্ত্ব। শ্রীমন্ত পোড়া (৪৯) নামে ব্যক্তিকে খুনে তাঁর স্ত্রীর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করল চণ্ডীতলা থানার পুলিস। ধৃতের নাম বরুণ হালদার (২৬)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিবকালীতলার বাসিন্দা তিনি। মঙ্গলবার রাতে কাকদ্বীপের একটি হাসপাতাল থেকে জখম অবস্থায় যুবককে পাকড়াও করে পুলিস। বুধবার আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ধৃতের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে খবর, ৩১ আগস্ট রাতে কুমিরমোড়া-জনাই রোডের হাটপুকুর এলাকায় ডোবা থেকে ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। রাতের অন্ধকারে ফাঁকা রাস্তায় স্কুটার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থানীয়দের দাবি, স্কুটারে রক্তের দাগ ছিল। এরপরেই চণ্ডীতলা থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। পাশের একটি ডোবা থেকে রাজমিস্ত্রি শ্রীমন্ত পোড়ার দেহ উদ্ধার হয়। গলায় তাঁর ক্ষত দাগ ছিল। ভাঙা বোতল দিয়ে খুন করা হয় বলে অনুমান করেন পুলিসকর্মীরা। মৃতের দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী টুম্পা ক্ষেত্রপালকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিস। ঘটনার দিন তিনি পাণ্ডুয়ায় বাপের বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু, পুলিসের সন্দেহের তালিকায় প্রথম থেকেই ছিলেন টুম্পা। তাঁকে জেরা করে বেরিয়ে আসে পরকীয়ার ঘটনা। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সম্প্রতি বরুণের সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়। কুমিরমোড়াতেই একটি জলের কারখানায় কাজ করেন টুম্পা ও বরুণ। সেখান থেকেই দু’জনের আলাপ। পরে তা প্রেমের রূপ নেয়। জেরায় পুলিস জেনেছে, সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে অশান্তি করে জুন মাসে বরুণের সঙ্গে চলে যান। কিছুদিন আগে তিনি বাপেরবাড়ি পাণ্ডুয়ায় ফিরে আসেন। ফের চণ্ডীতলা থানার কুমিরমোড়াতে স্বামীর সঙ্গে চলে আসেন।
অশান্তির জেরে আগে থেকে একে অপরকে চিনতেন শ্রীমন্ত ও বরুণ। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তাঁরা একসঙ্গে ঘটনাস্থলের কাছে মদ্যপান করেন। সেখানেই নেশার ঘোরে টুম্পা প্রসঙ্গ ওঠে। তার জেরে দু’জনের ব্যাপক বচসা বাঁধে। হাতাহাতিতে জড়ান তাঁরা। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা একটি অ্যাসিডের বোতল ভেঙে শ্রীমন্তের গলায় চালিয়ে দেয় বরুণ। কিন্তু, হাতাহাতির জেরে অভিযুক্ত যুবকও জখম হন। খুনের পর প্রেমিকার স্বামীকে ডোবায় ফেলে দেয় বরুণ। এরপরে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় সে। টুম্পার থেকে তার মোবাইল নম্বর জোগাড় করেন তদন্তকারীরা। লোকেশন ট্র্যাক করে দেখা যায়, কাকদ্বীপের একটি হাসপাতালে ভর্তি বরুণ। মঙ্গলবার রাতে সেখানে হানা দিয়ে খুন ও তথ্য প্রমাণে লোপাটে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে চণ্ডীতলা থানার পুলিস। এপ্রসঙ্গে হুগলি গ্রামীণ পুলিসের অতিরিক্ত সুপার কৃষানু রায় বলেন, কী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। বাজেয়াপ্ত হওয়া ভাঙা কাচের বোতল পরীক্ষাদের জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে। খুনের নেপথ্যে টুম্পার কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ