Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সই নকল করে সার্টিফিকেটের জন্য সুপারিশ, ছ’ঘণ্টা আটকে রেখে অভিযুক্তকে রেহাই

পঞ্চায়েত সদস্যের সই জাল করে ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য প্রধানের সুপারিশ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিরুলিয়া পঞ্চায়েতে।

সই নকল করে সার্টিফিকেটের জন্য সুপারিশ, ছ’ঘণ্টা আটকে রেখে অভিযুক্তকে রেহাই
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পঞ্চায়েত সদস্যের সই জাল করে ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য প্রধানের সুপারিশ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিরুলিয়া পঞ্চায়েতে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একসময় ওই প্রধানেরই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। প্রধানের ইস্যু করা সার্টিফিকেট তিনিই লিখে দিতেন। কিন্তু, একটি গৃহস্থের বাড়িতে সোনা চুরির ঘটনায় পঞ্চায়েত থেকে গুনিন আনার ছাড়পত্র দিয়ে প্রধানের কোপে পড়েছিলেন। তারপর প্রধান তাঁকে ওই কাজ থেকে সরিয়ে দেন। সেই ব্যক্তিই বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্যের সই জাল করে ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগ। ছ’ ঘণ্টা তাঁকে পঞ্চায়েত অফিসে আটকে রাখা হয়। রেয়াপাড়া ফাঁড়িতে খবর দেওয়ার পর পুলিসও পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছয়। শেষমেশ প্রধানের পায়ে ধরে এবং এধরনের কাজ ভবিষ্যতে না করার মুচলেকা দিয়ে রেহাই পান।
জানা গিয়েছে, বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুলিয়া দক্ষিণ বুথের নির্বাচিত সদস্য হলেন বিজেপির শিবু কামিল্যা। ওই বুথের বাসিন্দা প্রদীপ পণ্ডা ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য বেশ কয়েকবার পঞ্চায়েত অফিসে দৌড়ঝাঁপ করেছেন। ২০১৩ সালে তাঁর মা মারা গিয়েছেন। কিন্তু, ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ না করেই ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য দৌড়ঝাঁপ করায় পঞ্চায়েত সদস্য এবং প্রধান কেউ তা দেওয়ার উদ্যোগ নেননি। এই অবস্থায় একদা প্রধানের ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি তাঁকে মেম্বারের সই জাল করে প্রধানের কাছে সুপারিশ চিঠি পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেইমতো শিবু কামিল্যার সই জাল করে পঞ্চায়েতের প্যাডে ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য চিঠি করা হয়। সেই চিঠিতে লাগোয়া অন্য একটি বুথের সিল ব্যবহার করা হয়।
বৃহস্পতিবার ওই চিঠি নিয়ে প্রদীপ পণ্ডা পঞ্চায়েত অফিসে যে঩তেই তাঁকে জেরা শুরু করেন প্রধান মৈত্রী গুড়িয়া দাস। ওই ব্যক্তি নকল চিঠির কথা ফাঁস করতে বাধ্য হন। এরপরই পঞ্চায়েত অফিস থেকে ডাক পড়ে একদা প্রধানের ঘনিষ্ঠ নকল চিঠির হোতা ওই ব্যক্তিকে। তিনি অফিসে যাওয়ার পরই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থেকে সরকারি কর্মী প্রত্যেকে তাঁকে এনিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তিনি যাতে পালাতে না পারেন সেজন্য পঞ্চায়েত অফিসের তালা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত যুবক প্রধানের পায়ে ধরে মুচলেকা নিয়ে রেহাই পান। গোটা ঘটনার ভিডিও করে রাখা হয়। অভিযুক্ত যুবকের পাশাপাশি প্রদীপ পণ্ডাকেও সতর্ক করা হয়।
পঞ্চায়েত প্রধান মৈত্রীদেবী বলেন, বিরুলিয়া দক্ষিণ বুথের পঞ্চায়েত সদস্যের সই জাল করে নকল সুপারিশপত্র আনা হয়েছিল। ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য ওই সুপারিশপত্র এসেছিল। চিঠি দেখেই আমার সন্দেহ হয়। আবেদনকারীকে চেপে ধরতেই গোটা ঘটনার কথা খুলে বলেন। এটা অপরাধ। অভিযুক্ত ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটাবে না বলে মুচলেকা দেওয়ায় তাকে রেহাই দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চায়েত সদস্য শিবু কামিল্যা বলেন, আবেদনকারী প্রদীপ পণ্ডা আমার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। এর আগে ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য তিনি আমার কাছে এসেছিলেন। কিন্তু, ডেথ সার্টিফিকেট না আনায় আমি সুপারিশপত্র দিইনি। এরপরই জালিয়াতি করে সার্টিফিকেট আদায়ের চেষ্টা করে। কিন্তু, সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

Advertisement

 

সম্পর্কিত সংবাদ