Bartaman Logo
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সেচ পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যকে ৫০০ কোটি দিচ্ছে কেন্দ্র, হবে নদীবাঁধ ভাঙন রোধের কাজও

নদীবাঁধের ভাঙন রোধ এবং সেচ পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রাজ্যকে ৫০০ কোটি টাকা দিচ্ছে কেন্দ্র। এই খাতে দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ বন্ধ রেখেছিল মোদি সরকার।

সেচ পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যকে ৫০০ কোটি  দিচ্ছে কেন্দ্র, হবে নদীবাঁধ ভাঙন রোধের কাজও
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: নদীবাঁধের ভাঙন রোধ এবং সেচ পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রাজ্যকে ৫০০ কোটি টাকা দিচ্ছে কেন্দ্র। এই খাতে দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ বন্ধ রেখেছিল মোদি সরকার। টাকা আনতে একাধিকবার প্রতিনিধি দল পাঠানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লিখেছিল আগের রাজ্য সরকার। তাদের দাবি ছিল, ২০১৫ সালের পর থেকে এই খাতে একটিও টাকা দেয়নি কেন্দ্র। অবশেষে রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে সেই খরা কাটতে চলেছে। সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস। সেই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গকে শীঘ্রই ৫০০ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

Advertisement

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রাজ্যের সেচমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর যথেষ্ট ভালো বৃষ্টি হলেও নদীবাঁধ ভাঙার কোনো খবর আসেনি। এসব ঠিক রাখতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের তরফে বেশ কয়েকটি প্রকল্প খাতে অর্থের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। টাকা ছাড়া হবে বলে আশ্বাসও পেয়েছি। শীঘ্রই বরাদ্দ মিলবে বলে আমরা আশাবাদী।’
জানা গিয়েছে, পালাবদলের পর থেকে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে বন্যা এবং নদীবাঁধ ভাঙন ঠেকাতে এবং সেচ পরিকাঠামো উন্নয়নে ১৫২.৪ কোটি টাকা অর্থমূল্যের ১১৪টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ৭১টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং ৪৩টির কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে সেচ খাল ড্রেজিং সংক্রান্ত নীতিতেও বদল এনেছে বর্তমান সরকার। ‘নো কস্ট’  ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে বরাত পাওয়া সংস্থাকে আর ড্রেজিংয়ে তোলা বালি বা মাটির ৪০ শতাংশ ভাগ দিতে হবে না রাজ্যকে। পুরোটাই বিক্রি করবে সংস্থা এবং নির্দিষ্ট চুক্তি অনুযায়ী টাকা দেবে তারা। এই কাজে রাজ্যকে কোনো খরচ করতে হয় না। যে সংস্থা বরাত পায়, সেই সংস্থাই উত্তোলিত মাটি বা বালি বিক্রি করে। 
আগামী দিনে নদী এবং সমুদ্র পারে ‘টাইডাল ওয়েভ ডেটা কালেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ এবং ‘ওয়াটার ইন্টেলিজেন্স মিশন’ নামে একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সেচদপ্তর। এক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন সেচমন্ত্রী। এখানেই শেষ নয়। সেচখাল দখল করে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে একটি পোর্টাল চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্যের। এই পোর্টালের মাধ্যমে কোথাও এমন দখলদারির ঘটনা সামনে এলেই অভিযোগ জানাতে পারবে সাধারণ মানুষ। পূর্ব মেদিনীপুরে কাঁথি খাল সংস্কার করে সেখানে পেডেল বোট বা ওয়াটার ট্যাক্সি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ