নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জোগানে সমস্যা নেই বলে মুখে বলা হলেও মজুতদারির নজরদারিতে প্রয়োজনে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ অভিযানে নামবে বলেই ঠিক করেছে মোদি সরকার। ইস্যু; চিনি। উৎসবের মরশুম এখনও শুরু হয়নি। তারই মধ্যে চিনির দাম বেড়ে যাওয়াই নয়, জোগানেও টান পড়তে পারে বলে বাড়ছে আশঙ্কা। যদিও মোদি সরকারের দাবি, মোটেই জোগানে টান নেই। যথেষ্ট পরিমাণ চিনি মজুত রয়েছে। রবিবার খাদ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, স্রেফ উপভোক্তাদের জোগান নিশ্চিত করাই নয়। তার সঙ্গে সঙ্গে আখ চাষিদের বিষয়ও সরকারের নজরে রয়েছে। দেশের কোথাও যাতে কোনো ব্যবসায়ী মজুতদারি করতে না পারে, তার লক্ষ্যে রাজ্যে রাজ্যে নজরদারি অভিযানে নামা হবে বলেই ঠিক হয়েছে। এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সহ সব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছেন মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি সুরেশ কুমার নায়েক।
চিঠিতে তাঁর নির্দেশ, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে চিনির মজুত (স্টক) পরীক্ষা করতে হবে। কনফেকশনারি, সফট ড্রিঙ্কস প্রস্ততকারক, বড় মিষ্টির দোকান, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবসায়ীদের মতো যাদের প্রচুর পরিমাণ চিনির দরকার হয়, তারা যেন কোনোমতেই ১০ মেট্রিক টনের বেশি একটানা ১৫ দিনের বেশি না রাখতে পারে। রাখলে ধরা পড়লেই ন্যূনতম তিন মাস কারাদণ্ড। যা সাত বছর পর্যন্ত বাড়তেও পারে। সঙ্গে আর্থিক জরিমানাও। তাই কেউ চিনি মজুত করে আইন ভঙ্গ করছে কি না, রাজ্যগুলিকে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্টক বা মজুত পরীক্ষা করতে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিসারদের বাস্তবে মাঠে নামার কথাও বলেছে কেন্দ্র। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই নজরদারি চালাতে হবে।
ইথানলের জন্য চিনির জোগানে টান পড়েছে, তা মানতে নারাজ মোদি সরকার। উলটে সরকার বলছে, ইথানল তৈরিতে চিনির ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২২-২৩ সালে যেখানে ১২ শতাংশ আখ ব্যবহার হত, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা কমিয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। এখন বেশিরভাগ ইথানল তৈরি হয় ভুট্টা থেকে। তাহলে কেন জোগানে টান? কেনই বা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি?
মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানান, চিনির উৎপাদন এবার ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন হবে বলেই হিসেব কষেছিল কেন্দ্র। যদিও তা ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টন হবে বলেই এখন রাজ্যগুলির কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে সরকার। উৎসবের মরশুমে গোটা দেশে ২৯০ লক্ষ মেট্রিক টন চিনির দরকার হয়। ফলে চাহিদা আর জোগানের মধ্যে সামান্যই ফারাক, তা সরকারি তথ্যেই স্পষ্ট। সেই কারণেই মজুতদারি আটকাতে রাজ্যগুলিকে সক্রিয় হতেই নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই কড়াকড়ি চলবে।