


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পুজোর আগে সুসংবাদ! ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তুলো ও সুতোর উপর কোনওরকম আমদানি শুল্ক দিতে হবে না। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে খুশি শিল্পমহল। গত ১৯ আগস্ট তুলো ও সুতোর উপর ধার্য হওয়া ১১ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ‘শূন্য’ করেছিল ভারত সরকার। অর্থমন্ত্রক জানিয়েছিল, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই শুল্ক ছাড় পাওয়া যাবে। এর পরেই সরব হয় বস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত শিল্পক্ষেত্র এবং রপ্তানিকারী সংগঠন ও শিল্পসংস্থাগুলি। দাবি ওঠে, অন্তত চলতি আর্থিক বছরের শেষ পর্যন্ত চলুক এই শুল্ক মকুব। বৃহস্পতিবার আংশিকভাবে সেই দাবি মেনে নিল কেন্দ্র। গোটা আর্থিক বছরের জন্য না হলেও ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্তের ফলে সবথেকে বেশি আঘাত আসবে টেক্সটাইল, জুয়েলারি, সমুদ্রজাত খাদ্য রপ্তানিতে। ২৭ আগস্ট থেকে ওই ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকেই একে একে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্ধ হতে শুরু করেছে বস্ত্রশিল্পের বহু উৎপাদন ইউনিট। কারণ, নতুন অর্ডার আসছে না। আর এলেও আমেরিকার আমদানিকারী সংস্থাগুলি ৫-২০ শতাংশ ছাড় চাইছে। কারণ ভারতীয় পণ্য মার্কিন দেশে গেলে ৫০ শতাংশ কর চাপবে। ফলে ওইসব পণ্যের দাম হচ্ছে আকাশছোঁয়া। যার জেরে বিপুল লোকসানের মুখোমুখি হতে চলেছে বস্ত্র উৎপাদন সেক্টর। দুর্গাপুজো থেকে দীপাবলী—উৎসবের মরশুমে এই ধাক্কা সামাল দেওয়া বেশ কঠিন হয়ে উঠছে। দেশেও পোশাক শিল্পে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে দেশীয় বাজার থেকে লোকসান মেটানোর চেষ্টা করবে বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলি। এবং দাম বাড়িয়ে দেবে। এই পরিস্থিতিতে তুলো ও সুতো আমদানির উপর কেন্দ্র আমদানি শুল্ক শূন্য করে দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি শিল্পমহলে। যদিও আমদানি শুল্ক শূন্য হওয়ায় সবথেকে বেশি লাভবান হবে আমেরিকাই। কারণ সিংহভাগ তুলো আমদানি হয় আমেরিকা থেকেই। এনিয়ে বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর প্রশ্ন, কানাডা, ইউরোপ, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, চীন—সকল দেশই আমেরিকার শুল্কের জবাবে পাল্টা অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছে। আর প্রত্যেকের কাছে ট্রাম্প এখন নত হয়েছে। অথচ ভারত উল্টে কটনের উপর আমদানি শুল্ক শূন্য করে দিল। অথচ ভারতে সবথেকে বেশি কটন আসে আমেরিকা থেকেই। সুতরাং আমেরিকাকেই সুবিধা করে দেওয়া হল। এতকিছুর পরও মোদিজি কেন আমেরিকার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে পারছেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেজরিওয়াল।