Bartaman Logo
৪ জুলাই, ২০২৬

কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন, অষ্টম পে কমিশন গড়তে টালবাহানা

অষ্টম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদন এবং ঘোষণা আগেই হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য মনোনয়ন পর্ব শুরু হয়নি।

কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন, অষ্টম পে কমিশন গড়তে টালবাহানা
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অষ্টম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদন এবং ঘোষণা আগেই হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য মনোনয়ন পর্ব শুরু হয়নি। যদিও সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, সপ্তম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের প্রায় ৬ মাস পর তা গঠন করা হয়েছিল। 

Advertisement

সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে দাবি করেছে, তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা না করে পে কমিশন যেন কোনও রিপোর্ট তৈরি না করে। প্রসঙ্গত, অর্থ কমিশনের রিপোর্ট তথা সুপারিশ তৈরি হওয়ার আগে সমস্ত রাজ্যের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে নেওয়াই সরকারি প্রটোকল ও বিধি। কিন্তু কেন্দ্রীয় পে কমিশনের ক্ষেত্রে সেরকম কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। কেন্দ্রীয় পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কর্মীদের বেতন ও ভাতার বদল হয়। তার সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। কিন্তু পরোক্ষ প্রভাব আছে। কারণ কেন্দ্রীয় পে কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর কমবেশি সেই ধাঁচেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের পে কমিশন হয়। সেই কারণেই রাজ্য সরকারগুলির উদ্বেগ। কারণ কেন্দ্রীয় পে কমিশনের পক্ষ থেকে বিরাট মাপের কোনও বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হলে সেই অনুপাতেই রাজ্য কর্মীদের প্রত্যাশা তৈরি হয়। কিন্তু রাজ্যের হাতে 
ক্রমেই আর্থিক সংস্থান কমে যাচ্ছে। এমনকী কেন্দ্র এখন থেকেই অর্থ কমিশনের কাছে আবেদন করেছে, যাতে রাজ্যকে প্রদেয় করের অনুপাত কমিয়ে দেওয়া যায়। অথচ রাজ্যগুলি চাইছে কমপক্ষে ট্যাক্সের ভাগ যেন ৫০ শতাংশ করা হয়। কারণ প্রতিটি রাজ্য অর্থাভাবে ভুগছে। আবার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকাও আটকে 
দিচ্ছে কেন্দ্র। এমনকী রাজ্যকে প্রদেয় আর্থিক সহায়তাও বন্ধ করে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই কারণেই রাজ্য সরকারগুলি দাবি করছে, 
আগে  কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চিত করুক যে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে রাজ্যগুলির অর্থের সংস্থান বাড়বে, তারপর পে কমিশনের রিপোর্ট তৈরি হোক। নচেৎ কেন্দ্র ও রাজ্য কর্মীদের মধ্যে বেতন ও ভাতার বৈষম্য বাড়তেই থাকবে। রাজ্য কর্মীদের রোষের 
শিকার হতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। সব মিলিয়ে এই চাপানউতোরের আড়ালে আটকে রয়েছে পে কমিশনের কাঠামো গঠন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ