Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূলের সঙ্গে বাংলাদেশের জামাতিদের সম্পর্ক! ফাইল তৈরি করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা

তৃণমূলের সঙ্গে বাংলাদেশের উগ্র মৌলবাদী সংগঠন জামাতের সম্পর্ক নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে এবার ফাইল তৈরি করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

তৃণমূলের সঙ্গে বাংলাদেশের জামাতিদের সম্পর্ক! ফাইল তৈরি করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা
  • ৩১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের সঙ্গে বাংলাদেশের উগ্র মৌলবাদী সংগঠন জামাতের সম্পর্ক নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে এবার ফাইল তৈরি করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সীমান্তের ওপারের এই সংগঠনের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের একাংশের যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য আসতে শুরু করেছে। এই রাজ্য ১৫ বছরে কোন সমীকরণে জামাত তাদের শিকড়কে এত মজবুত করল, সেটাই খতিয়ে দেখতে চাইছেন তাঁরা। পাশাপাশি জামাতের টাকা এই রাজ্যে এসেছে কি না, তা নিয়ে খুঁটিনাটি তথ্য জোগাড় শুরু হয়েছে বলে খবর।

Advertisement

বাংলাদেশের নির্বাচনে জামাত ৬৮টি আসন জিতেছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া. রাজশাহী. চাঁপাইনবাবগঞ্জ সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তারা বিএনপিকে হারিয়ে দিয়েছে। এই রাজ্যের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দুই দিনাজপুর ও উত্তর ২৪ পরগনা লাগোয়া জেলায় মৌলবাদী এই সংগঠনের প্রভাব বিস্তার চিন্তায় ফেলেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। যা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর জামাত তলে তলে এখানে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা শুরু করেছে। বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছে জামাতের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। তারা প্রকাশ্যেই  তৃণমূলের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছে। সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে তা ভাইরাল করা হচ্ছে। যে কারণে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জামাত এবং তৃণমূলের মধ্যে কোনও গোপন সমীকরণ রয়েছে কি না, সেটা খোঁজার কাজে হাত দিয়েছেন বলে খবর। সীমান্ত লাগোয়া জেলায় তৃণমূল আমলে জামাত নেতাদের অবাধ যে যাতায়াত ছিল, তা কেন্দ্রের বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে আসছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও দুই দিনাজপুরের মতো জেলায় চোরাচালানে মদত রয়েছে এই মৌলবাদী সংগঠনের। অবৈধ কারবারের টাকা যাচ্ছে জামাত ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে। জামাতের এই বাড়বাড়ন্তের পিছনে তৃণমূল নেতাদের একাংশের ভূমিকা এখন গোয়েন্দাদের নজরে।
কারণ তাঁরা জেনেছেন, প্রাক্তন শাসক দলের এই নেতাদের একাংশের মদতে বেড়ে উঠেছে জামাতের একাধিক নেতা। যে কারণে তাদের শিকড় অনেকদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছে। ভারতীয় নথি পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। কিন্তু কেন তাদের এখানে সেফ প্যাসেরজ দেওয়া হল, সেটাই  গভীরে গিয়ে খুঁজতে চাইছেন গোয়েন্দারা। নিষিদ্ধ সিমি সংগঠনের যে সমস্ত নেতা বর্তমানে এরাজ্যের রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে জামাতের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। পাশাপাশি জামাত বিপুল অর্থ এদেশে ঢুকিয়েছে বলে যে তথ্য উঠে আসছে, তা কোথায় গেল, তাই নিয়ে তথ্য জোগাড় চলছে বলে খবর।

সম্পর্কিত সংবাদ