Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

পরিকাঠামো উন্নয়নে বাধা হতে পারে কেন্দ্রের সুদের বোঝা, মত ক্রিসিলের

জিডিপির নিরিখে রাজস্ব ব্যয় (রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচার) কমাতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। কেন্দ্রের এই উ঩দ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল।

পরিকাঠামো উন্নয়নে বাধা হতে পারে কেন্দ্রের সুদের বোঝা, মত ক্রিসিলের
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জিডিপির নিরিখে রাজস্ব ব্যয় (রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচার) কমাতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। কেন্দ্রের এই উ঩দ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল। কারণ, রাজস্ব ব্যয় কমানো গেলে মূলধনী ব্যয় বাড়ানো সম্ভব হয়। তাতে দেশের পরিকাঠামোগত উন্নতি হয়। সম্পদ সৃষ্টি হয়। তবে ক্রিসিলের আশঙ্কা, যেভাবে সুদ প্রদানের বোঝা বাড়ছে, তাতে কি আদৌ উন্নয়নমূলক কাজে খরচ বাড়াতে উদ্যোগী হতে পারবে কেন্দ্র? কারণ, একদিকে জিডিপির নিরিখে রাজস্ব ব্যয় কমছে। অন্যদিকে ধাপে ধাপে বেড়েছে জিডিপির নিরিখে সুদ প্রদানের হার। ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে জিডিপির ৩.২ শতাংশ সুদ মেটাতেই চলে যেত। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে তা ৩ শতাংশে নামানো সম্ভব হয়। ওই পর্যন্তই। ধাপে ধাপে তা বেড়ে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩.৪ শতাংশে পৌঁছায়। চলতি ও আগামী অর্থবর্ষে তা ৩.৬ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে বাজেটে। অর্থাৎ সুদ প্রদানের দায় আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধছে কেন্দ্রকে। ক্রিসিলের বক্তব্য, উন্নয়নমূলক বৃহৎ প্রকল্পের জন্য টাকা বরাদ্দ করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে এই সুদের বোঝা। 

Advertisement

এবারের বাজেটে রাজস্ব খরচ জিডিপির ১০.৫ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। ক্রিসিল দাবি করেছে, তা যদি সম্ভব হয়, তাহলে গত দশ বছরে তা সর্বনিম্ন হবে। ২০০৮-০৯ অর্থবর্ষে এই হার ১৪.৪ শতাংশ ছিল। সেবার আর্থিক মন্দার প্রভাব ছিল দেশীয় অর্থনীতিতে। তারপর জিডিপির নিরিখে রাজস্ব ব্যয় কমতে থাকে। তা ফের বেড়ে ১৫.৫ শতাংশে পৌঁছায় করোনার সময়। কারণ, তখন ভর্তুকি সহ একাধিক প্যাকেজ ঘোষিত হয়েছে নানা ক্ষেত্রে। তারপর আবারও নামতে শুরু করে ওই হার। কেন্দ্রের রাজস্ব ব্যয় কমানোর উ঩দ্যোগের প্রশংসা করলেও ক্রিসিল স্বীকার করে নিয়েছে, রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রীয় অনুদান কমিয়ে দেওয়াতেই এই খাতের খরচে লাগাম পরানো গিয়েছে। জিএসটি বাবদ রাজ্যগুলির ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কমানোও ছিল কেন্দ্রের হাতিয়ার। অর্থাৎ রাজ্যগুলিকে বঞ্চিত করেই তারা আর্থিক বুনিয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। তাই সব মিলিয়ে রাজস্ব ব্যয় কমানোর এই কেন্দ্রীয় উ঩দ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, দেশের আর্থিক পরিস্থিতিকে কতটা এগিয়ে দিতে পারবে, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তার অবকাশ রেখেছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থাটি। তার মূল কারণ, দেনার সুদ মেটানো। তাদের বক্তব্য, একদিকে জিডিপির নিরিখে রাজস্ব ব্যয় কমছে, অন্যদিকে  ধাপে ধাপে বেড়েছে জিডিপির নিরিখে সুদ প্রদানের হার। সাধারণত দৈনন্দিন ও স্বল্পমেয়াদি খরচ রাজস্ব ব্যয়ের আওতায় পড়ে। খরচের হার জিডিপির নিরিখে কমার অর্থ, সরকার খুচরো খরচ কমাতে পেরেছে। দীর্ঘমেয়াদী এবং সম্পদ সৃষ্টিকারী খরচের সুযোগ বাড়ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ