নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, ইসলামপুর: কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ‘স্থায়িত্ব’ যে বেশিদিন নেই, তার ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে দাঁড়িয়ে তাঁর সরাসরি মন্তব্য, একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নেই কেন্দ্রের সরকারের। টলমল করছে। যে কোনও দিন ভাঙবে। অন্য দু’টি রাজনৈতিক দলকে দিয়ে স্থিতিশীল সরকার দেখাচ্ছে তারা। কিন্তু কেন্দ্রের সরকার একেবারেই স্থিতিশীল নয়। সেইসঙ্গে ধর্ম নিয়ে বিজেপি যে ধরনের রাজনীতি করছে, তার বিরুদ্ধেও সরব হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সমাজের একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী দলনেতার মন্তব্যের তীব্র নিন্দাসহ বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে একটি প্রস্তাব আনেন মন্ত্রী গোলাম রব্বানি। ওই প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপিকে চড়া সুরে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, একটি ধর্মের মানুষকে আঘাত করা বিজেপি বিধায়কের কর্তব্যবোধের পরিচয় হতে পারে না। মূলত, বিভাজনের রাজনীতি করে বিজেপি ভোট বাক্সে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ বারবার উঠছে। তার প্রেক্ষিতেই এদিন মমতা বলেন, বিজেপির বাইরে থেকে আমদানি করা নিজস্ব ধর্ম, যেখানে জালিয়াতি, ভেজাল ধর্মের আমদানি করেছে। ফিরহাদ হাকিম কিংবা হুমায়ুন কবীরের মতো তৃণমূল নেতাদের মন্তব্য ঘিরে যখন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তখন দলগতভাবে কড়া পদক্ষেপ নেয় তৃণমূল। কিন্তু বিরোধী দলনেতার ‘কুরুচিকর মন্তব্যের’ পরেও তাঁর বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ বিজেপির তরফে নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নটা তুলে দিয়েছেন মমতা। ধর্মের উস্কানি আর ভেদাভেদের রাজনীতি করে বিজেপি বাংলা দখলের স্বপ্ন কোনওদিন বাস্তব হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন মমতা। তাঁর চ্যালেঞ্জ, যাঁরা (বিজেপি) মণিপুর সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁরা আবার বাংলা চালাবেন? রাজ্যের একটি জেলা চালাতে পারবেন তো?
এদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগ এনে চাকুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা কংগ্রেস নেতা আলি ইমরান রমজ ওরফে ভিক্টর। তিনি বলেন, বিরোধী দলনেতা যে মন্তব্য করেছেন তাতে বিশেষ একটি ধর্মের মানুষের উপর আঘাত হানার চেষ্টা করেছেন তিনি। এছাড়া চাকুলিয়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আনওয়ার আলম দাবি করেছেন, বিরোধী দলনেতাকে গ্রেপ্তার করা হোক।