সংবাদদাতা, বোলপুর: ভোট শেষ হয়েছে এপ্রিলে। গ্রীষ্মাবকাশও কেটে গিয়েছে। বীরভূম জেলার অধিকাংশ স্কুলে এবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পঠন-পাঠন। কিন্তু নানুরের টিকেএম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এখনও ঝুলছে অনিশ্চয়তার মেঘ। ভোটের সময় মোতায়েন হওয়া কেন্দ্রীয় বাহিনী এখনও ওই স্কুল ভবনেই অবস্থান করায় বন্ধ রয়েছে ক্লাস। ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যেতে না পেরে হতাশ ছাত্রীরা। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও।
গ্রীষ্মাবকাশের পর অন্যান্য স্কুলের মতো তারাও নতুন উদ্যমে স্কুলে ফিরতে চেয়েছিল। কিন্তু অষ্টম শ্রেণির নাসরিন খাতুন, দশম শ্রেণির অঙ্কিতা ঘোষাল, সপ্তম শ্রেণির রোহানা সুলতানা ও স্বর্ণালী রজকদের মতো বহু ছাত্রীকে স্কুলের মূল গেট থেকেই এদিন ফিরতে হয়েছে। কারণ স্কুল ভবন এখনও প্রশাসনের দখলেই রয়েছে।
ছাত্রীদের কথায়, দীর্ঘদিন স্কুলে না যেতে পারায় পড়াশোনার ছন্দ ভেঙে গিয়েছে। বাড়িতে বসেও ঠিকমতো পড়াশোনায় মন বসছে না। অঙ্কিতা, রোহানারা জানায়, অনেকদিন স্কুলে যাইনি। পরীক্ষাও হয়নি। আর ভাল লাগছে না। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না, পড়াশোনারও ক্ষতি হচ্ছে।
স্কুলের পঠন-পাঠন বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে পরীক্ষার সূচিতেও। এখনও পর্যন্ত প্রথম সেমেস্টার পরীক্ষার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যেও। রাজীব ঘোষাল ও সজল চৌধুরীদের মতো অনেকেই অবিলম্বে স্কুল খোলার দাবি তুলেছেন। তাঁরা বলেন, মাসের পর মাস স্কুল বন্ধ রেখে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করা ঠিক নয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার প্রয়োজন হলে অন্য কোনো সরকারি ভবনে ব্যবস্থা হোক। স্কুলে দ্রুত পঠন-পাঠন শুরু করা প্রয়োজন।
এই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শেলী রায় জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব মহলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও মিলেছে। দীর্ঘদিন ক্লাস বন্ধ থাকার পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত প্রথম সেমেস্টার পরীক্ষাও নেওয়া যায়নি। ফলে ছাত্রীরা সমস্যার মধ্যে রয়েছে।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী সরে যাওয়ার পর পুরো স্কুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে অন্তত একদিন সময় লাগবে। তারপরই ছাত্রীদের স্কুলে আসার নির্দেশ দেওয়া হবে। এর আগে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে সীমিত সংখ্যক ছাত্রী নিয়ে স্কুলের সামনে মঞ্চে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতিমধ্যে গত ১০ জুন রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর এক নির্দেশিকা জারি করে জানায়, ভোটপর্ব শেষ হলেও রাজ্যের ১৬৫টি স্কুলে এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। এতে পঠন-পাঠন ব্যাহত হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে অবিলম্বে বাহিনীকে অন্যত্র সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নানুর ব্লক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই স্কুল ভবন খালি করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের এই আশ্বাসে আশাবাদী ছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।