


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভোট মিটে গেলেও পূর্ব মেদিনীপুরে রাতদিন আধা সেনার টহল জারি থাকছে। ভোট পরবর্তী হিংসা মোকাবিলায় রবিবার জেলায় ২৩ কোম্পানি আধা সেনা এসেছে। সোমবার থেকে ফের স্পর্শকাতর এলাকায় রুটমার্চ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। দিন রাত এই রুটমার্চ চালাতে হবে বলে পুলিশ সুপার প্রত্যেক থানায় নির্দেশ পাঠিয়েছেন। বলা হয়েছে, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টো, বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা এবং রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত তিনটি শিফ্টে বাহিনী রুটমার্চ করবে। আগামী ৪মে ভোটের ফল প্রকাশ পর্যন্ত এই বাহিনী থাকছেই। ইলেকশন কমিশনের মডেল কোড অব কন্ডাক্ট(এমসিসি) প্রত্যাহার হওয়ার পর রাজ্যে ক্ষমতাসীন পার্টির ইচ্ছা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বলে সূত্রের খবর।
প্রথম দফায় ভোট মিটে যাওয়ার পর ভোটের ডিউটিতে আসা কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী দ্বিতীয় দফার জন্য চলে গিয়েছে। তারপরই ভোট পরবর্তী হিংসা মোকাবিলায় ফের জেলায় জেলায় আধা সেনা এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ২৩কোম্পানি বাহিনী এসেছে। প্রত্যেক থানায় এক কোম্পানি বাহিনী থাকবে। সোমবার মারিশদা থানার সাব ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম দুই সেকশন অর্থাৎ ১৬জন আধা সেনা নিয়ে সকালে ভাজাচাউলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রুটমার্চ করেন। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর কৌশল্যা গ্রামে ভোটের দিন ঝামেলা হয়। রিন্টু মাইতি নামে আধা সেনার গাড়ির চালক তথা স্থানীয় এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন সেই গ্রামেও টহল দেয় বাহিনী। বিকালে ওই থানার কুমিরদা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় রুটমার্চ করে আধা সেনা।
জেলার প্রত্যেক থানায় আধা সেনা নিয়ে রুটমার্চ শুরু হয়েছে। ময়নার বাকচা, খেজুরির নিজকসবা ও জনকা, কাঁথির আমতলিয়া, আঁউরাই সহ উপদ্রুত বিভিন্ন এলাকায় রুটমার্চ শুরু হয়েছে। আগামী ৪মে ভোটের ফল ঘোষণার পর যাতে হিংসা ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য আগেভাগে বাহিনী আনা হয়েছে। আধা সেনা বিভিন্ন উপদ্রুত এলাকায় গিয়ে মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কাজ করছে। ২০২১ সালে এই জেলায় ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষত এখনও দগদগে রয়েছে। সেই ঘটনা আটকাতে আগেভাগে বাহিনী আনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। প্রত্যেক থানায় এক কোম্পানি বাহিনী রাখা হয়েছে। দ্রুত এলাকায় পৌঁছানোর জন্য থাকবে গাড়ি। উপদ্রুত এলাকায় বেশি নজর রাখছে প্রশাসন। মারিশদা থানার ভাজাচাউলিতে আধাসেনার রুটমার্চ।