


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা হয়নি। তার আগেই শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ঝাড়গ্রামে পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে। জেলার পাঁচটি স্কুল ও তিনটি ক্যাম্পে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের রাখা হবে। প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ী বৈঠকে কোথায় কোথায় রুট মার্চ হবে, তা ঠিক করা হবে। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর বলেন, জেলায় সীমিত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে। কোন জায়গায় রুট মার্চ হবে, তা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ী বৈঠক করে স্থির করা হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে জেলার বিভিন্ন স্কুল ও ক্যাম্পে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজ্যে ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে। তার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গেই ১৭৪ কোম্পানি মোতায়েন থাকবে। ঝাড়গ্রামে শনিবার সকালের মধ্যেই সীমিত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে আসবে। স্কুল ও ক্যাম্পে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ‘কনফিডেন্স বিল্ডআপে’র জন্য রুট মার্চ করা হবে। ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি বিধানসভায় ভোট গ্ৰহণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১১০১টি। কোনো বুথে ভোটারের সংখ্যা ১২০০-র বেশি হলে সেখানে দু’টি বুথ হওয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি একটি সর্বদলীয় বৈঠকের সর্বসম্মতিক্রমে জেলা প্রশাসন আরও ১২১টি বুথ বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠায়। শুক্রবার ফের ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, এখনো পর্যন্ত জেলায় বুথ সংখ্যা বাড়ানোর কোনো নির্দেশ আসেনি। ভোট ঘোষণার আগে পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সম্পূর্ণ রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহারের ক্ষমতা আপাতত জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের হাতে থাকছে। নির্বাচন ঘোষণার আগে থেকেই জেলার উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলির চিহ্নিতকরণ শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরানো মামলায় পরোয়ানা থাকা ব্যক্তিদের কোর্টে পাঠানো হচ্ছে। জেলার বিডিও, থানার আইসি ও ওসিরা আগের নির্বাচনে অশান্তি হওয়া জায়গাগুলি বিশেষভাবে চিহ্নিত করছেন। আইনশৃঙ্খলাজনিত যাবতীয় রিপোর্ট প্রতিটি থানার তরফে জেলায় পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচনের সময় অশান্তি তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
দেড় দশক আগে জেলায় মাওবাদী সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছিল। বিনপুর-১ ও ২ ব্লকে সবচেয়ে বেশি অশান্তি হতে দেখা গিয়েছিল। সারা বছর এইসব এলাকায় পুলিশের নজরদারি চলে। তাই নির্বাচনের আগেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। লালগড় থানা এলাকায় কাঁটাপাহাড়ী সিআরপিএফ ক্যাম্প, নছিপুর ও বৈতার দু’টি স্কুলে এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। বেলপাহাড়ী থানা এলাকায় জামতলাগড় সিআরপিএফ ক্যাম্পেও এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। জঙ্গললাগোয়া গ্ৰামের পাশাপাশি বুথ এলাকায় সাধারণ মানুষের কনফিডেন্স বিল্ডআপ করা হবে। নয়াগ্ৰাম বিধানসভার ধানশোল এলাকার একটি স্কুলে এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। সাঁকরাইলের কুলটিকরি এসসি হাইস্কুলে ও গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের গভর্নমেন্ট আইটিআই প্রতিষ্ঠানে এক কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। প্রথম পর্বে জামবনী ব্লকে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে না।