


অভিষেক পাল, বহরমপুর: গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় অশান্ত হয়েছে জঙ্গিপুর পুলিস জেলার অন্তর্গত সামশেরগঞ্জ, সূতি ও রঘুনাথগঞ্জ। তা দেখে সতর্ক ছিল পড়শি মুর্শিদাবাদ পুলিস জেলাও। কেননা, জঙ্গিপুর মহকুমা সংলগ্ন নবগ্রাম ও লালগোলা থানা এলাকায় অশান্তির আঁচ লাগার সম্ভাবনা ছিল। তাই, কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে পুলিস এবং গোয়েন্দা দপ্তর লাগাতার তথ্য সংগ্রহ করে গিয়েছে। পাশাপাশি স্পর্শকাতর বেলডাঙা, শক্তিপুর, রেজিনগর, কান্দি ও নওদা থানা এলাকায় বাড়তি পুলিস মোতায়েন করে সামান্য ঘটনাতেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার পরও নিরাপত্তায় কোনওরকম ফাঁকফোঁকর রাখতে চাইছে না মুর্শিদাবাদ পুলিস জেলার আধিকারিকরা। বিভিন্ন থানা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে রুটমার্চ করানো হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে কান্দি, বহরমপুর ও বেলডাঙা এলাকায় পুলিসের সঙ্গে বিএসএফকে ঘুরতে দেখে রীতিমতো হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘুরে দেখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন পুলিস আধিকারিকরা। এদিকে, এদিন বহরমপুর হাসপাতালে আক্রান্তদের দেখতে যান প্রদেশ কংগ্রেস নেতা তথা বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী। পরে তিনি সামশেরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাও ঘুরে দেখেন।
মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত পুলিস সুপার (সদর) মাজিদ ইকবাল খান বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থার জন্য চার কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী আমরা পেয়েছি। তাদের নিয়ে এদিন বিভিন্ন থানা এলাকায় রুটমার্চ করানো হয়েছে।
বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, জঙ্গিপুর মহকুমার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ পুলিস জেলার বিভিন্ন জায়গায় আমরা চার কোম্পানি বাহিনী পাঠিয়েছি। বহরমপুরের গোরাবাজার, কান্দি ও বেলডাঙা এলাকায় টহল দিচ্ছে তারা। পাশাপাশি আরও এক কোম্পানি বাহিনী লালবাগে আমাদের ক্যাম্পাসে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে লালবাগ মহকুমায় পাঠানো হবে। বেলডাঙার বাসিন্দা রাজু শেখ বলেন, জেলার অন্যত্র একটা সমস্যা হয়েছে বলেই খবর পেয়েছি। আমাদের এলাকায় কোনও সমস্যা নেই। তবুও বিএসএফ এসেছে দেখছি। এলাকায় ওরা থাকুক। আমাদের সমস্যা নেই। তবে স্থানীয় পুলিসের উপর আমাদের ভরসা রয়েছে। বহরমপুরের গোরাবাজারের বাসিন্দা অনুপ মাইতি বলেন, জেলার বদনাম হচ্ছে। জঙ্গিপুরে কিছু হলেও আমাদের জেলার নামে বদনাম হয়। বাইরে থেকে সবাই ফোন করছে। পরিস্থিতি জানতে চাইছে। আমাদের এখানে সবকিছু স্বাভাবিক। সেটা বুঝতেই চাইছে না অনেকে। এখন আবার দেখছি বিএসএফ এসেছে।
অল ইন্ডিয়া ইমাম ও মোয়াজ্জিন সংগঠনের নেতা তথা লালবাগের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের মুর্শিদাবাদ জেলাতে সম্প্রীতি বজায় থাকুক, সেটাই আমরা চাই। এদিন সকাল থেকে দেখছি, অনেক জায়গাতেই বিএসএফ মোতায়েন করা হয়েছে। বিএসএফ টহল দিক। তাতে কোনও সমস্যা নেই। তবে রাজ্য পুলিস এবং জেলা পুলিসের উপর আমাদের যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। আধিকারিকদের সঙ্গে আমরা সহযোগিতা করে কাজ করি। ভরতপুরে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির বলেন, বিজেপি মণিপুর সামলাতে পারে না। অথচ, মুর্শিদাবাদ ও মালদাকে কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের দাবি করছে।