Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প নিয়ে গড়িমসি কেন্দ্রের, ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে কপিলমুনির মন্দির

হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও রোধ করা যাচ্ছে না সাগরদ্বীপের ভাঙন। প্রতি বছরই কিছুটা করে জমি চলে যাচ্ছে সমুদ্রের গর্ভে। অবিলম্বে পদক্ষেপ না করলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অস্তিত সংকটে পড়বে কপিলমুনির মন্দিরও।

বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প নিয়ে গড়িমসি কেন্দ্রের, ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে কপিলমুনির মন্দির
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও রোধ করা যাচ্ছে না সাগরদ্বীপের ভাঙন। প্রতি বছরই কিছুটা করে জমি চলে যাচ্ছে সমুদ্রের গর্ভে। অবিলম্বে পদক্ষেপ না করলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অস্তিত সংকটে পড়বে কপিলমুনির মন্দিরও। এই পরিস্থিতিতে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভাঙন রোধে কেন্দ্রের উদাসীনতার বিষয়টি। কারণ, সাগরদ্বীপ সহ সুন্দরবনকে রক্ষা করতে বিশ্বব্যাংকের অর্থ সাহায্যে ৪,১০০ কোটি টাকার প্রকল্প রূপায়ণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সহায়তাপ্রাপ্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রের অনুমোদন আবশ্যিক। রাজ্য হাজার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখনও সেই অনুমোদন মেলেনি বলেই খবর। ফলে রাজ্যের কোষাগারই আপাতত ভরসা। বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প চালু হলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাগরদ্বীপের ক্ষয় রোধ সম্ভব হতো। কপিলমুনির মন্দিরের ভবিষ্যৎ নিয়েও আর কোনও সংশয় থাকত না বলেই মনে করছে প্রশাসন।

Advertisement

সাগরদ্বীপের উপকূল প্রায় ৭০ কিলোমিটারের। এর একটি বড় অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষয় হয়ে চলেছে বলে লক্ষ্য করেছেন এলাকাবাসী ও উপকূল বিশেষজ্ঞরা। চিন্তিত রাজ্য সেচদপ্তরও। ইতিমধ্যে নেদারল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে এই দ্বীপ রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা। ভাঙন ঠেকাতে একাধিক স্তরে বোল্ডার, শালবল্লা ইত্যাদি দিয়ে পাড় বাঁধানোর কাজ করা হয়েছে মন্দিরের সামনের উপকূল বরাবর। নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে স্নানের ঘাট। রাজ্য তাদের নথিতেই জানিয়েছে, ‘ব্যাপক ভাঙনের কারণে এবার মেলায় আগত ৭০ শতাংশ পুণ্যার্থীকে ‘ওয়ান-এ’ স্নানঘাটের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। সেখান থেকে মন্দিরের সোজাসুজি অবস্থিত এক নম্বর স্নানঘাট হয়ে পুণ্যার্থীরা যাতে পুজো দিতে যেতে পারেন, তার জন্য একটি তিন মিটার চওড়া এবং ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
কিন্তু এতেও স্বস্তি মিলছে না। তাই বন, কৃষি, পঞ্চায়েত, সুন্দরবন উন্নয়ন সহ একাধিক দপ্তরকে নিয়ে কাজে নেমেছে সেচদপ্তর। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে রাজ্যের তরফে। প্রকল্পের ডিপিআর সহ একাধিক নথি জমা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে। তার পরেও কেন বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের ছাড়পত্র কেন্দ্র দিচ্ছে না, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাজ্য। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে বুজে যাওয়া নদী, নালা, খাল পুনরুজ্জীরবিত করে সুন্দরবনে জলের লবণত্ব সংক্রান্ত সমস্যারও মোকাবিলা করা যাবে। রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, ‘বাংলার প্রতি কেন্দ্রের এই উদাসীনতা কেন? যদি কপিলমুনির আশ্রমও ভাঙনের গ্রাসে চলে যায়, তার দায় কি কেন্দ্র নেবে?’ 
প্রসঙ্গত, এর আগে ভাঙনের জেরে দু’বার তলিয়ে গিয়েছে কপিলমুনির মন্দির। ফের সেই একই পরিণতি চাইছে না এলাকাবাসী থেকে মন্দির কর্তৃপক্ষ। কপিলমুনি মন্দিরের জ্ঞানদাস মহন্তের উত্তরাধিকারী সঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, রাজ্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। কিন্তু এত বড় কাজে কেন্দ্র এগিয়ে না এলে সম্ভব নয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ