কান্দি পুরসভার সিসি ক্যামেরা বিকল, পুজোয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন মহিলাদের
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: রাজ্যের পালা বদলের পর থেকে সিসি ক্যামেরাগুলি বিকল থাকার দাবি। ফলে কান্দি শহরের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গত কয়েকমাসে শহরে চুরির ঘটনাও বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ। পুজোর মুখে নিরাপত্তার এই অভিযোগ আরও বেড়ে গিয়েছে। যদিও কান্দি পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার বিশাল ভদ্র মণ্ডল জানান, সিসি ক্যামেরাগুলির মেরামত করা হচ্ছে। আশা করি পুজোর আগেই সবকিছু আগের মতন পরিষেবা পাওয়া যাবে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে তৃণমূল পরিচালিত কান্দি পুরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়। প্রথমদিকে কান্দি থানার মোড়, হাসপাতাল মোড়, রাজস্কুল মোড়, আদালত মোড় ইত্যাদি আটটি মোড়ে ওই পরিষেবা চালু হয়। যার জন্য দুটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়। এর একটি কান্দি পুরভবনে, অন্যটি কান্দি থানায় রয়েছে। ওই দুই কন্ট্রোলরুমে স্কিনের মধ্যে চোখ রেখে শহরের অপরাধমূলক ঘটনা কমানোর চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে আরও বিভিন্ন এলাকায় ক্যামেরা বসানো হয়। কান্দি পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় ১৩টি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ক্যামেরা বসানো রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০টি ক্যামেরা দিয়ে শহরে নজরদারি চালানো হয়। এর ফলে শহরের অপরাধমূলক ঘটনা অনেক কমে গিয়েছে। এমনকি ক্যামেরার দৌলতে কান্দি বাস টার্মিনাস এলাকা থেকে একাধিক অপরাধিকে গ্রেপ্তারও করা হয়। 
এদিকে শহরে আগের তুলনাই চুরির ঘটনা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। বিশেষ করে গত তিনমাসে ১১টির বেশি বাড়িতে চুরি হয়েছে বলে দাবি। এর মধ্যে অধিকাংশ ফাঁকা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। আর এসব হওয়ার পিছনে সিসি ক্যামেরাগুলি কাজ না করার দাবি উঠে এসেছে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের দীপঙ্কর দাস, সমীর দাস, প্রভাত দাস প্রমুখেরা জানান, চারমাস আগেও তাঁরা নিশ্চিন্তে বাড়ি ফাঁকা রেখে অন্য কোথাও যেতে পারতেন। কিন্তু সম্প্রতি চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি ফেলে রেখে কোথাও বেরোনোর উপায় নেই। এর কারণ হিসেবে তাঁরা সিসি ক্যামেরার কাজ না করার দাবি করেন। কান্দি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান জয়দেব ঘটক বলেন, অনেক সিসি ক্যামেরা ঠিকমতন কাজ করছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুষ্কৃতীদের গতিবিধিও নজরে আসছে না।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পরেই কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন জয়দেববাবু। কান্দির প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, সিসি ক্যামেরাগুলির অধিকাংশ বিকল থাকার কথা শুনেছি। এর ফলে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও কান্দি থানার পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
এদিকে দূর্গাপুজোর মুখেই এমন ঘটনায় বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে মহিলারা পুজো দেখতে গিয়ে কতটা নিরাপদে থাকবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মীনাক্ষী হালদার বলেন, এবারের পুজোয় মনে হয় গয়না পরে বেড়ানো যাবে না। কারণ আগে রাস্তায় কিছু ঘটলে সিসি ক্যামেরায় তা ধরা পড়ার সম্ভাবনা ছিল। এখন সেটা আর নেই বলে জেনেছি। বৈশালী দত্ত বলেন, প্রায় চারমাস ধরে শহরের সিসি ক্যামেরাগুলি খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। অথচ সেগুলি মেরামত করার নাম নেই। এর ফলে পুজোয় আমরা কতটা খোলা মনে বেড়াতে পারবো তা বুঝতে পারছি না।