


নয়াদিল্লি: স্কুল শিক্ষায় বড়োসড়ো সংস্কার করল সিবিএসই। নবম ও দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য নয়া ‘ভাষা নীতি’ ঘোষণা করল বোর্ড। ১৫ মে এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সিবিএসই। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নবম ও দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের তিনটি ভাষা (আর১, আর২,আর৩) পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচিত তিনটি ভাষার মধ্যে দু’টি ভারতীয় ভাষা থাকতেই হবে। তৃতীয় ভাষার জন্য বোর্ড পরীক্ষায় বসতে হবে না। তবে স্কুলে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন হবে। পরীক্ষার শংসাপত্রে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বরের উল্লেখ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। পড়ুয়ারা চাইলে কোনো বিদেশি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসাবে বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে বাকি দু’টি ভাষা ভারতীয় হতে হবে। বিদেশি ভাষাকে অতিরিক্ত চতুর্থ ভাষা হিসাবেও পড়ার সুযোগ থাকছে। আগামী ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হতে চলেছে এই নতুন নিয়ম। ১৫ জুনের মধ্যেই পড়ানোর গাইডলাইন প্রকাশ করবে বোর্ড।
গত এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। সেক্ষেত্রে স্কুলগুলি ধাপে ধাপে এই নতুন নীতি অবলম্বন করতে পারবে। বিজ্ঞপ্তিতে সিবিএসই জানিয়েছে, ‘এনসিইআরটি’র সিলেবাস খতিয়ে দেখার পরে এই নতুন নীতি অবলম্বন করা হয়েছে।’ নতুন নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে স্কুলগুলি যাতে সমস্যায় না পড়ে তার জন্য বেশকিছু নির্দেশিকা দিয়েছে সিবিএসই। বোর্ড জানিয়েছে, নতুন পাঠ্যবই না আসা পর্যন্ত নবম শ্রেণির জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির বই ব্যবহার করা হবে। ১৯টি ভারতীয় ভাষার বই আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে স্কুলগুলিকে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্থানীয় ও আঞ্চলিক ভাষায় রচিত কবিতা, ছোটোগল্প ও কল্পকাহিনিকে পঠনপাঠনের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে অন্য ভাষার শিক্ষককে এই কাজে নিয়োগ করা যাবে। শুধু সংশ্লিষ্ট ভারতীয় ভাষায় দক্ষ হলেই চলবে। সিবিএসই’র এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসাবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। শিক্ষকদের মতে, এর জন্য পড়ুয়াদের মধ্যে ভারতীয় ভাষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। পোক্ত হবে ভাষাগত দক্ষতা।