


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এক সংস্থা থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে গেলে আর ইপিএফ অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার করতে হবে না গ্রাহককে। এক্ষেত্রে ওই গ্রাহকের ইপিএফ অ্যাকাউন্টে ‘অটো ট্রান্সফার’ হয়ে যাবে। দেশব্যাপী ইপিএফ গ্রাহকদের এসংক্রান্ত বিষয়ে ঝক্কি কমাতে এবার এমনই নয়া ব্যবস্থা চালুর পথে হাঁটতে চলেছে মোদি সরকার। শ্রমমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ইপিএফও ৩.০ কর্মসূচি চালুর সঙ্গেই এহেন নয়া ব্যবস্থা কার্যকর হয়ে যাবে।
দেশের বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা শর্তসাপেক্ষে সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা ইপিএফের আওতায় থাকেন। এই মুহূর্তে সারা দেশে কর্মী পিএফ গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত কোটি। কোনো ইপিএফ গ্রাহক যদি এক সংস্থা থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন, তাহলে নিয়মমতো ওই কর্মীকে তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্টও ট্রান্সফার করাতে হয়। কারণ ইপিএফওর আওতাভুক্ত তাঁর নতুন প্রতিষ্ঠানেও ওই কর্মীর নামে আর একটি পিএফ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এর ফলে আগের অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার করিয়ে বর্তমানের সঙ্গে ‘মার্জ’ করানো অত্যন্ত জরুরি। ইপিএফ গ্রাহকদের একটি বড়ো অংশের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় তাঁদের অযথা হয়রানির শিকার হতে হয়। অনলাইনে পূরণ করতে হয় ইপিএফওর ফর্ম-১৩। সেখানে পূর্বতন এবং বর্তমান নিয়োগ কর্তার স্বাক্ষরও প্রয়োজনও হয়। সবমিলিয়ে এই কাজের জন্য সরকারিভাবেই অপেক্ষার সময় দেওয়া হয় অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন। গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ, বাস্তবে পিএফ অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার হতে আরও সময় লাগে। ফলে পিএফ কন্ট্রিবিউশন প্রদান সংক্রান্ত প্রক্রিয়াতেও জটিলতার সৃষ্টি হয়।
শ্রমমন্ত্রকের আলোচনা অনুযায়ী, এহেন প্রেক্ষাপটেই গ্রাহকের পিএফ অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার পরিকল্পনা হয়েছে। এর ফলে সংস্থা পরিবর্তন করলেও সংশ্লিষ্ট ইপিএফ গ্রাহককে আর কোনো ফর্ম-১৩ পূরণ করার ঝক্কি সামলাতে হবে না। এমনকি এবিষয়ে কোনোরকম মাথাও ঘামাতে হবে না। নতুন কোম্পানিতে যোগ দিলে ওই কর্মীর নামে যে ইপিএফ অ্যাকাউন্ট খোলা হবে, তারই ভিত্তিতে যাবতীয় তথ্য পৌঁছে যাবে শ্রমমন্ত্রকের অধীনস্ত কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও) নিজস্ব ডেটাবেসে। সেই তথ্যভাণ্ডারের উপর ভিত্তি করেই এসংক্রান্ত বিষয়ে সামগ্রিক পদক্ষেপ করবে মোদি সরকার। প্রক্রিয়াও দ্রুত হবে।