


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কয়লা পাচার তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সিবিআইকে কার্যত ‘তুলোধোনা’ করলেন বিচারক। শুক্রবার আসানসোলে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়ের উষ্মা প্রকাশ—‘আপনাদের (সিবিআই) ফারদার ইনভেস্টিগেশন কতদিন চলবে? অনন্তকাল ধরে তো তদন্ত চলতে পারে না! পরবর্তী শুনানিতে তদন্তকারী অফিসারকে চার্জশিট দেওয়ার পর তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট দিতেই হবে।’ এই পর্বে সিবিআইয়ের আইনজীবী সময় প্রার্থনা করলে, বিচারক বলেন, ‘কোনও সময় দেওয়া হবে না। আদালতকে ‘টেকেন ফর গ্র্যান্টেড’ ভাববেন না।’ সিবিআইয়ের আইনজীবী, এমনকী অভিযুক্তর আইনজীবীরাও পুজোর পর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করতে অনুরোধ করেন। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বিচারক মহালয়ার পরের দিন অর্থাৎ, ২২ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন স্থির করেছেন। কয়লা পাচার মামলার এদিনের শুনানিতে গরহাজির ছিলেন মামলার সাক্ষী। সেই সূত্র ধরেই বিচারক অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়ের উষ্মা প্রকাশ্যে এসেছে। ভর্ৎসিত হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
২০২২ সাল থেকে শুরু হয়েছে কয়লা পাচার তদন্ত। সিবিআইয়ের করা এই মামলায় একাধিকবার রাজ্য-রাজনীতিতে ঝড় ওঠে। শাসক দলের প্রথম সারির নেতাদের নাম উঠে আসে এই মামলায়। হাই প্রোফাইল এই মামলায় অনুপ মাজি ওরফে লালা সহ ইসিএলের প্রাক্তন সিএমডি, জিএমদের নামে চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই। সেই মামলার ট্রায়ালও শুরু হয়ে গিয়েছে। তারপরও মামলায় যেন প্রাণ নেই। অভিযুক্তরা আদালতে আসছেন, সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, অথচ গরহাজির থাকছেন সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার। নতুন কোনও রিপোর্টও জমা পড়ে না। এই পরিস্থিতিতে এদিন দৃশ্যত ক্ষুব্ধ দেখায় বিচারককে। তিনি প্রশ্ন করেন, সিবিআই প্রথম চার্জশিট কবে দিয়েছে? এজেন্সির আইনজীবী উত্তর দেন, ২০২২ সালের জুলাই মাসে। পরবর্তী কালে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে একটি করে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়া হয়। বিচারক ফের প্রশ্ন করেন, তাহলে ২০২৫টা কী ভুলে গেল। ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে একটি করে চার্জশিট, ২০২৫ ফাঁকা? ছন্দ তো মিলল না। সিবিআইয়ের আইনজীবীকে কটাক্ষ করে বিচারক প্রশ্ন করেন, এই তদন্ত শেষ হবে তো? অনন্তকাল ধরে তদন্ত চলতে পারে না। এরপরই বিচারক বলেন, পরের শুনানির দিনই তদন্তকারী অফিসারকে পরবর্তী তদন্তের রিপোর্ট জমা করতে হবে। কেস ডায়েরি সঙ্গে নিয়ে আদালতে হাজির হতে বলবেন। সুযোগ বুঝে অভিযুক্তের আইনজীবী শেখর কুণ্ডু বলেন, অভিযুক্তদের ট্রায়াল চলছে, এখনও তাঁদের প্রতিমাসে হাজিরা দেওয়ার জন্য সিবিআই ডেকে পাঠাচ্ছে। এটার কি যুক্তি আছে? বিচারক বলেন, পরবর্তী শুনানির দিন সেই নোটিস আদালতে নিয়ে আসবেন।
রিপোর্ট জমা করার জন্য সিবিআইয়ের হয়ে সময় চান আইনজীবী রাকেশ কুমার। বিচারক বলেন, কোনও সময় হবে না। রিপোর্ট পরবর্তী শুনানিতেই জমা করতে হবে এবং তা আমি খুব কম সময়ের ব্যবধানেই দেব। অভিযুক্তের আইনজীবীরা তখন বলেন, সামনেই পুজো, অনেকেই বাইরে থাকবেন। বিচারক তাঁদের আর্জিকে গুরুত্ব না দিয়ে পুজোর আগেই মামলার দিন স্থির করেন। শেষে সিবিআইয়ের আইনজীবীকে সতর্ক করে বলেন, তদন্তকারী অফিসার রিপোর্ট পাঠিয়ে দিলে হবে না। তাঁকে সশরীরে এজলাসে হাজির হতে হবে। সেদিন কোনও সাক্ষ্যগ্রহণ হবে না।