সংবাদদাতা, বর্ধমান: বগটুই গণহত্যা মামলায় ঘটনার চার বছর পর চার্জশিটে নাম থাকা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই। ধৃতের নাম রোহন শেখ ওরফে কিসমত শেখ। বীরভূমের রামপুরহাট থানার বগটুইয়ের পূর্বপাড়ায় তার বাড়ি। ধৃত বগটুই কাণ্ডে অভিযুক্ত লালন শেখের ছেলে। সিবিআই হেপাজতে থাকাকালীন লালনের রহস্য মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার কলকাতার মির্জা গালিব রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত সে। বুধবার ধৃতকে বর্ধমানের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের আদালতে পেশ করা হয়।
আদালতে সিবিআইয়ের দাবি, তাদের অফিস চত্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের আইনজীবী অমিত লাহা বলেন, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা মানা হয়নি। ঘটনার সময় ধৃতের বয়স ১৮ ছিল। তাই তার জামিন মঞ্জুর করা হোক। সিবিআইয়ের আইনজীবী অবশ্য জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন। দু’পক্ষের সওয়াল শুনে চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রাজেশ তামাং ধৃতকে বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে ৩০ জুন ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বগটুই কাণ্ডের এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই গা ঢাকা দেয় রোহন। তদন্ত সম্পূর্ণ করে সিবিআই চার্জশিট পেশ করে। পরে আরও তিনবার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। চার্জশিটে রোহন সহ ২৭জনের নাম রয়েছে। তাকে পলাতক দেখিয়ে চার্জশিট পেশ করা হয়। তার নামে হুলিয়া জারি হয়। পরে তাকে ঘোষিত অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করে রামপুরহাট আদালত। দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চালাচ্ছিল সিবিআই। অবশেষে সে ধরা পড়ল। ধৃতের আইনজীবী আরও জানান, ২৭জনের বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিট পেশ করেছে। দু’জন মারা গিয়েছেন। এর আগে ২২জন ধরা পড়ে। এখনও দু’জন ধরা পড়েনি।
২০২২ সালের ২১ মার্চ সন্ধ্যায় বগটুই মোড়ে বোমার আঘাত এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের উপপ্রধান ভাদু শেখ। তারপরই পুরো এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে। গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে শিশু ও মহিলা সহ ১০জনের মৃত্যু হয়। হাইকোর্টের নির্দেশে কেসের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতেই সিবিআইয়ের তরফে মামলাটি অন্যত্র সরানোর জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায় মামলাটি পূর্ব বর্ধমান জেলা আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।