নয়াদিল্লি: নগদ কাণ্ডে আরও বিপাকে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা। এবার সংসদীয় তদন্ত কমিটিও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করল। কমিটি সদস্যরা জানিয়েছেন, বিচারপতির বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু, সেই টাকার উৎস, মালিকানা ও কীভাবে বিপুল অর্থ সেখানে এল— এ প্রশ্নগুলির কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বিচারপতি ভার্মা। তিনি জবাব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন অথবা বিভ্রান্তিকর উত্তর দিয়েছেন। বুধবার সংসদের দুই কক্ষেই এই রিপোর্ট জমা পড়েছে। তাতে ইমপিচমেন্ট তদন্ত কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ বিচারপতি ভার্মার সরকারি বাসভবনের নগদ উদ্ধার নিয়ে তিনটি অভিযোগ উঠেছিল। তিনটিই প্রমাণিত হয়েছে।
বিচারপতি ভার্মা অবশ্য দাবি করেছিলেন, তিনি ওই নগদের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। যদিও নিজের বক্তব্যের সমর্থনে যথাযথ প্রমাণ দিতে পারেননি। ১২৬ পাতার রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিচারপতির সরকারি বাংলো থেকেই বিপুল নোট উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু, কোথা থেকে সেই অর্থ এল, তার কোনো যথোপযুক্ত ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। স্টোররুমে থাকা বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণও তিনি সংরক্ষণ করেননি। ফলে পরে আর নোটগুলি পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, যে স্টোররুমে ৫০০ টাকার বিপুল নোট ছিল, সেটির সঙ্গেও কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছিলেন বিচারপতি। যদিও কমিটির তদন্তে সেই যুক্তি ধোপে টেকেনি। কারণ, ওই ঘরের একটি বন্ধ ক্যাবিনেট থেকে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একাধিক সামগ্রী মিলেছে। এর থেকেই প্রমাণিত যে ওই ঘর বিচারপতি ভার্মারই। তবে তিনিই ঘর থেকে নগদগুলি সরিয়ে ফেলেছিলেন কি না, সেব্যাপারে নিশ্চিত নন কমিটির সদস্যরা।
গত বছর মার্চ মাসে এই নগদকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক হতেই তদন্তের নির্দেশ দেন তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। তদন্তে অভিযুক্ত বিচারপতি ভার্মার দিকেই আঙুল ওঠে। তারপরই তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু, সেই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন বিচারপতি ভার্মা। এরপরই তদন্ত রিপোর্ট রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সংসদেও তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরুর আর্জি জানায় বিরোধীরা। গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। যদিও তদন্তের মধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন বিচারপতি ভার্মা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি তদন্ত রিপোর্ট এবার ঠাণ্ডা ঘরে চলে যাবে নাকি ইস্তফা দিলেও নিয়মমতো তাঁকে ইমপিচ করা হবে?