Bartaman Logo
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বসিরহাট পুরবোর্ড ভাঙার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টে দায়ের মামলা

দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগে মাস ছয়েক আগে বসিরহাট পুরসভার চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে পুরবোর্ড ভেঙে দিয়েছিল পূর্বতন রাজ্য সরকার

বসিরহাট পুরবোর্ড ভাঙার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টে দায়ের মামলা
  • ৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগে মাস ছয়েক আগে বসিরহাট পুরসভার চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে পুরবোর্ড ভেঙে দিয়েছিল পূর্বতন রাজ্য সরকার। বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর বসিরহাটের মহকুমা শাসককে নাগরিক পরিষেবা ও পুরসভা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর। এবার রাজ্যের সেই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের হল হাইকোর্টে। 

Advertisement

মামলাকারী তথা বসিরহাট পুরসভার ১৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ রায়ের আইনজীবী ওমর ফারুক জানিয়েছেন, ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলা দায়ের হয়েছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৈরি সাংবিধানিক সংস্থা যাতে সরাসরি সাধারণ মানুষের পরিষেবা দিতে পারে আদালতে সেই আবেদন জানানো হয়েছে।’ আইনজীবীর দাবি, একটা প্রশাসনের ক্ষেত্রে ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালান্সেস’-এর ব্যাপার থাকে। কোনো অঞ্চলের সরকারি সুবিধে দিতে গেলে কারা তা পাওয়ার যোগ্য, সেই তথ্য প্রশাসনের কাছে থাকে না। সেটা থাকে জনপ্রতিনিধিদের কাছে। কারণ তাঁরা সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত। সাধারণ মানুষের ভোটে জিতে পুর প্রতিনিধি হয়েছেন তাঁরা। বোর্ড ভেঙে যাওয়ার ফলে মানুষ নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’ 
যদিও বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট, বাদুড়িয়া ও টাকি তিনটি পুরসভায় পূর্বতন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পুর প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি। কয়েকদিন আগে বাদুড়িয়া থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। এই তিন পুরসভার চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলারদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিও তুলেছে বিজেপি।  
প্রসঙ্গত, বসিরহাট মোট ২৩ ওয়ার্ডের পুরসভা। ইতিমধ্যে একজন কাউন্সিলারের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে কাউন্সিলার ২২ জন। বেহাল রাস্তা, আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল, আলো ও নিকাশিনালা নিয়ে সমস্যা এবং আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে গত ৯ নভেম্বর একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। তার ভিত্তিতে সরকার গত ১৮ নভেম্বর ২২ জন কাউন্সিলারকে শোকজ নোটিস দেয়। তার সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে একমাসের মাথায় পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা গরমের ছুটির পর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ