Bartaman Logo
৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রক্তদান শিবির বন্ধের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা, রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট

তদন্তের কারণে কয়েকটি প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকের রক্তদান শিবির বন্ধ হওয়ায় যাতে একজনও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর ভোগান্তি না হয়, তা দেখছে সরকার।

রক্তদান শিবির বন্ধের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে  মামলা, রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট
  • ৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তদন্তের কারণে কয়েকটি প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকের রক্তদান শিবির বন্ধ হওয়ায় যাতে একজনও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর ভোগান্তি না হয়, তা দেখছে সরকার। শুক্রবার একথা জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম।

Advertisement

এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে গিয়েছে একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে সরকারকে রিপোর্ট দিয়ে জানাতে বলেছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। ১৯ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার অনেক বেশি রক্ত সংগ্রহ, শিবিরে নিয়ম না মানা, অনুমতি ছাড়াই লোহিত রক্তকণিকা ও প্লাজমা ভিনরাজ্যে বিক্রি করা সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে সোনারপুর, এন্টালি, যোধপুর পার্ক, আলিপুর রোড, পদ্মপুকুর, বেলেঘাটা, হাওড়া, কৃষ্ণনগর, রায়গঞ্জ, পূর্ব বর্ধমান ও অন্ডালের ওই বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু-কিশোর এবং বিভিন্ন বয়সের রোগীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে স্বাস্থ্যদপ্তরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের জেরে চরম ভোগান্তির খবর শুক্রবার বর্তমান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তারপরই নড়েচড়ে বসেছে সরকার। এদিন রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদের কর্তাদের প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকের উপর নির্ভরশীল থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের জন্য রক্তের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন দপ্তরের শীর্ষকর্তারা। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের উত্তর কলকাতার থ্যালাসেমিক গার্জিয়ান্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এন আর এস মেডিকেল কলেজ ব্লাড ব্যাংক। তাদের সংগঠনভুক্ত রোগীদের জন্য কীভাবে রক্তের ব্যবস্থা করা যায়, তা জানতে বৈঠক হওয়ার কথা। এমনই জানিয়েছেন সংগঠনের অন্যতম কর্তা জয়ন্ত সোম।
এদিকে, স্বেচ্ছায় রক্তদান আন্দোলনের কর্মীদের একাংশ জানিয়েছে, সরকার দুর্নীতিমুক্ত রক্ত পরিষেবা চাইছে। তাহলে বড়ো বড়ো কর্পোরেট হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের অন্দরমহলের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখুক তারা। তা করতে পারবেন তো স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়? সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কর্পোরেট হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকগুলি কেন স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির করে না, কেন সরকারি ব্লাড ব্যাংকগুলিতে কাতারে কাতারে শূন্যপদ, কেন রক্ত নিতে আসা মানুষের ভোগান্তি হয়, কেন ব্লাড ব্যাংকের চৌহদ্দিতে দালালরা ঘোরাঘুরি করে সেইসবও খতিয়ে দেখা দরকার। এদিকে, শিবির বন্ধ হওয়ায় এদিনও প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকে রক্ত আনতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তদের বাড়ির লোকজন। তাঁরা সেই অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।
এদিকে, স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির বন্ধের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবার হাইকোর্টে দায়ের হল মামলা। রক্ত সংগ্রহ ও বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংককে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ বন্ধের নির্দেশ জারি হয়েছে ১ আগস্ট থেকে। স্বাস্থ্যদপ্তরের সেই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছিল, সম্প্রতি বিভিন্ন বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকে আচমকা হানা দিয়ে একাধিক অনিয়ম স্বাস্থ্যকর্তাদের নজরে আসে। তার প্রেক্ষিতেই শুরু হয়েছে তদন্ত। তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজন করে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ