Bartaman Logo
১৮ জুন, ২০২৬

কাঠ মিস্ত্রিদের বিক্ষোভ, মাঝপথে থামল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রথ তৈরির কাজ

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রথ তৈরির কাজে কাঠ মিস্ত্রিদের বিক্ষোভে কাজ থেমে গেছে। প্রশাসনের নতুন নির্দেশে ক্ষুব্ধ শিল্পীরা। বিস্তারিত পড়ুন।

কাঠ মিস্ত্রিদের বিক্ষোভ, মাঝপথে থামল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রথ তৈরির কাজ
  • ১৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পুরী: প্রায় দু’মাস আগে শুরু হয়েছে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রথ তৈরির কাজ। অক্ষয় তৃতীয়া থেকে তিলে তিলে গড়ে তোলা হচ্ছে শ্রীজগন্নাথদেবের নন্দীঘোষ, ভগবান বলভদ্রের তালধ্বজ ও দেবী সুভদ্রার দর্পদলন। এতদিন এই রথগুলি তৈরির পর উদ্বৃত্ত কাঠ বাড়ি নিয়ে যেতে পারতেন মিস্ত্রিরা, বলা ভালো, রথ শিল্পীরা। এবার এই নিয়ে বেশ কড়াকড়ি করেছে প্রশাসন। নির্দেশ জারি করে বলা হয়েছে, রথ তৈরির জন্য ব্যবহৃত কাঠের উদ্বৃত্ত অংশ বাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে না। এই নির্দেশে বেজায় চটেছেন মিস্ত্রিরা। বুধবার ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এর জেরে প্রায় চারঘণ্টা বন্ধ থাকে রথ তৈরির কাজ। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, রীতি, প্রথা, পরম্পরা ও ঐতিহ্য মেনে মহারানা সেবক সম্প্রদায়ের সদস্যরাই রথ তৈরির কাজে যুক্ত থাকেন। এবারও সেইমতো জোরকদমে নির্মাণ চলছিল। কিন্তু, কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এক শিল্পী জানিয়েছেন, মন্দির রেকর্ডস অব রাইটস (আরওআর)-এর অধীনে রথ তৈরির পর উদ্বৃত্ত কাঠ নিয়ে যাওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নিয়ম চলে আসছে। কিন্তু, জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন (এসজেটিএ) উদ্বৃত্ত কাঠ নিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষের এই একতরফা নির্দেশ মেনে নেওয়া যায় না। 
সবমিলিয়ে প্রায় ২০০ জন রথশিল্পীদের বিক্ষোভে কাজ বন্ধ হতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন এসজেটিএর প্রশাসক প্রিয়রঞ্জন প্রুস্তি। তাঁর যুক্তি, পরের বছরের জন্য কাঠ সংরক্ষণ করতেই নতুন নিয়ম করা হয়েছে। তিনটি রথের দায়িত্বে থাকা মুখ্য নির্মাতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সমস্যা মিটে গিয়েছে। উদ্বৃত্ত কাঠের বদলে এবার তাঁদের টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। 
পুরীর মন্দির সূত্রে খবর, রথগুলি তৈরির জন্য ৮৬৫টি বড় আকারের কাঠের টুকরোর প্রয়োজন পড়ে। এতদিন চারফুটের কম উচ্চতা ও তিন ফুটের কম চওড়া উদ্বৃত্ত কাঠের টুকরো শিল্পীরা নিয়ে যেতে পারতেন।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ