নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতের কিংবদন্তি ফুটবলার পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়ের সল্টলেকের বাড়িতে নৃশংস খুন! সপ্তাহ দুয়েক আগে ৫ হাজার টাকা চুরি থেকে যে চাপানউতোর জন্ম নিয়েছিল, তার সমাপ্তি হল প্রাণহানির মধ্য দিয়ে। দোল উৎসবের রাতে ছুরির কোপে খুন হলেন বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির কেয়ারটেকার-পরিচারক গোপীনাথ মুহুরি (৪৮)। অভিযোগের তির ওই বাড়িরই বহু পুরনো ও বিশ্বস্ত ড্রাইভারের দিকে। নাম, বরুণ ঘোষ। শুক্রবার রাতে বাড়িতে কেউ ছিল না। সেই সুযোগে মদের আসর বসিয়েছিলেন পরিচারক ও গাড়িচালক। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় একে অপরকে ছুরির কোপ মারতে থাকে। তাতেই মৃত্যু হয় গোপীনাথের। ইতিমধ্যে খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর কমিশনারেট। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ড্রাইভার বরুণকে।
২০২০ সালের ২০ মার্চ ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনাবসান হয়। তাঁর মৃত্যুদিবসের ঠিক ছ’দিন আগে তাঁর সল্টলেকের বাড়িতে এমন একটা ঘটনা তোলপাড় ফেলেছে শহরজুড়ে। জিডি ব্লকের ২৭৩ নম্বর বাড়িতে থাকতেন পিকে। বাবার মৃত্যুর পর এই মুহূর্তে বাড়ির মালিকানা বড় মেয়ে পলার। তাঁর এক বোনও রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে বাড়িতে দু’জন পরিচারিকা, পরিচারক গোপীনাথ ও গাড়িচালক বরুণও থাকত। গোপীনাথ ১৪ বছর বয়স থেকে ওই বাড়িতে কাজ করছেন। আবার প্রায় ১২ বছর ধরে এই পরিবারের গাড়ি চালাচ্ছেন বরুণ। সপ্তাহ দু’য়েক আগে পলাদেবীর ৫ হাজার টাকা লোপাট হয়ে যায়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিচারিকা, গোপীনাথ ও বরুণকে বকাবকি করেন তিনি। মদের আসরে উঠে আসে সেই প্রসঙ্গ। একে অপরকে ‘তুই চোর’ বলে দোষারোপ করতে থাকেন গোপীনাথ ও বরুণ। বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিস জানতে পেরেছে, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যেই পকেট থেকে একটি ছুরি বের করে গোপীনাথ। সেই ছুরি সরাসরি চালিয়ে দেয় বরুণের উপর। তিনি সরে গেলেও ছুরির ফলা বরুণের গলা ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। তাতে আংশিক জখম হন গাড়িচালক। এরপর আক্রোশের বশে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সেই ছুরি দিয়েই গোপীনাথকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে অভিযুক্ত। অত্যধিক রক্তক্ষরণে অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি।
বাড়ির পরিচারিকারা বিধাননগর দক্ষিণ থানায় খবর দেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। জখম অবস্থায় দু’জনকেই উদ্ধার করে বিধাননগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা গোপীনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছে বরুণও। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মদ্যপানের সময় টাকা চুরির প্রসঙ্গে বরুণের দিকে আঙুল তুলেছিলেন গোপীনাথ। বলেছিলেন, ‘তুই গাড়ি করে নিয়ে এসেছিস ম্যাডামকে। ব্যাগ থেকে টাকা তুই-ই চুরি করেছিস।’ তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বরুণ। শনিবার তাকে আদালতে পেশ করার সময়েও সে লাগাতার বলে গিয়েছে, ‘আমি চুরি করিনি। ও মিথ্যা বলেছে।’