নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গাড়ি প্রতারণার বড় চক্র ধরল সোনারপুর থানা। ভাড়া নেওয়ার নাম করে একজনের গাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম শঙ্কর গুপ্তা ও রাকিব মোল্লা। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই দু’জন বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ২৮-৩০টি গাড়ি বিক্রি করেছেন। তাঁদের জেরা করে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ১০টি গাড়ি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার (হেডকোয়ার্টার্স) সৌম্যজিৎ বড়ুয়া বলেন, তিনজন প্রতারিত মালিক সোনারপুর থানায় অভিযোগ করেছিলেন। তদন্তে নেমে এই দু’জনকে ধরা হয়েছে। এই চক্রে আরো কয়েকজনের নাম উঠে আসছে। তাঁদের খোঁজ চলছে।
অভিযোগ আসতেই থানার আইসি আশিস দাস, আইও সৌরভ মণ্ডল, সাব ইন্সপেক্টর সুরজিৎ দাস সরকারের নেতৃত্বে শুরু হয় তদন্ত। জানা গিয়েছে, ধৃতরা প্রথমে বিভিন্ন গাড়ির মালিকের কাছে যেতেন। তাঁদের গাড়ি সরকারি জায়গায় ভাড়া খাটানোর প্রস্তাব দেওয়া হতো। যাঁরা রাজি হতেন তাঁদের প্রথমে ৫০-৬০ হাজার টাকা অগ্রিম দিতেন দু’জনে। চুক্তিপত্র সই করে গাড়ি নিয়ে আসতেন। পুলিশ, আইনজীবী, ডাক্তারদের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হতো। সেই মতো কোনো গাড়িতে পুলিশ, কোনোটায় আইনজীবীর লোগো লাগিয়ে প্রস্তুত করতেন রাকিবুল। কিন্তু সেই গাড়ি ভাড়ায় না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হতো। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়ায় এভাবে অনেক গাড়ি বিক্রি করা হয়েছে। এমনকী একটি গাড়ি দিল্লিতেও বিক্রি করা হয়েছে বলে খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এভাবে গাড়ি বিক্রি করে প্রতারকরা এক কোটির বেশি টাকা হাতিয়েছেন।



