Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গ্যারাজ থেকে বেরতে গিয়ে পুকুরে গাড়ি, দেড় ঘণ্টা পর উদ্ধার মহিলার দেহ, মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেষ্টপুরে

গ্যারাজ থেকে গাড়ি বের করার সময় ভুল করে সম্ভবত ব্রেকের বদলে এস্কেলারেটরে পা দিয়ে ফেলেন। গাড়িটি আচমকা গতি বাড়িয়ে রাস্তা টপকে সোজা গিয়ে পড়ে পুকুরে।

গ্যারাজ থেকে বেরতে গিয়ে পুকুরে গাড়ি, দেড় ঘণ্টা পর উদ্ধার মহিলার দেহ, মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেষ্টপুরে
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: গ্যারাজ থেকে গাড়ি বের করার সময় ভুল করে সম্ভবত ব্রেকের বদলে এস্কেলারেটরে পা দিয়ে ফেলেন। গাড়িটি আচমকা গতি বাড়িয়ে রাস্তা টপকে সোজা গিয়ে পড়ে পুকুরে। সঙ্গে সঙ্গে সেন্ট্রাল লকিং সিস্টেম যায় চালু হয়ে। চালক মহিলা কোনোভাবেই বেরতে পারেননি। কয়েকজন পুকুরে ঝাঁপিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু ১২ ফুট জলের গভীরে তলিয়ে যাওয়া গাড়ি থেকে মহিলাকে উদ্ধার করতে পারেননি। এরপর পুলিশ ও দমকল আসে। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর গাড়ি ডাঙায় তোলা হয়। ততক্ষণে মারা গিয়েছেন মহিলা। 

Advertisement

এরকম দুর্ঘটনার কথা সচরাচর শোনা যায় না। মর্মান্তিক এবং বিরল ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার, কেষ্টপুরের প্রফুল্লকাননে। মৃতের নাম সুমিত্রা দাস। বয়স ৩৫। তিনি একটি কর্পোরেট সংস্থায় কাজ করতেন। ২২ আগস্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য টেস্ট দিতে যাওয়ার কথা ছিল সুমিত্রাদেবীর। তার আগে গাড়ি চালিয়ে হাত সেট করছিলেন। এদিনও সে কারণে গ্যারাজ থেকে গাড়ি বের করতে গিয়েছিলেন। দু’মাস আগে গাড়িটি কিনেছিলেন সুমিত্রাদেবীরা। তাঁর স্বামী কৃষ্ণেন্দু দাস ব্যবসা করেন। প্রফুল্লকাননে তাঁদের ফ্ল্যাটের কাছে একটি গ্যারাজে গাড়িটি রাখতেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তারপর হাত সেট করতে পৌনে ৮টা নাগাদ গাড়ি নিতে গ্যারাজে যান সুমিত্রাদেবী। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ‘গাড়ি গ্যারাজ থেকে রাস্তায় বের করছিলেন। গাড়ি হঠাৎ সামনে এগিয়ে যায়। তারপর সামনের একটি পুকুরে সোজা গিয়ে পড়ে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যায়।’
আশপাশে থাকা কয়েকজন ছুটে গিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দেন। কিন্তু গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে সুমিত্রাদেবীকে বের করতে পারেননি। কারণ ততক্ষণে সেন্ট্রাল লকিং সিস্টেম সক্রিয় হয়ে ভিতর থেকে লক হয়ে গিয়েছিল। ১২ ফুট নীচে তলিয়ে যাওয়া গাড়ির কাচ ভাঙতে পারেননি তাঁরা। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল পৌঁছে জল থেকে গাড়ি তোলার ব্যবস্থা করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায় এই কাজে। গাড়ি উপরে তোলার পর দেখা যায় ভিতরে সুমিত্রদেবী উল্টো অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর মাথা পিছনের সিটের দিকে। পা স্ট্রিয়ারিংয়ের দিকে। পুলিশের অনুমান, গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। সম্ভবত পিছনের সিটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেও উইন্ডশিল্ড ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারেননি। 
এই ঘটনার পর সম্পূর্ণ ওলোটপালট হয়ে গিয়েছে সুমিত্রাদেবীর স্বামী কৃষ্ণেন্দুবাবু ও তাঁদের কন্যার জীবন। কার্যত বাকরুদ্ধ তাঁরা। শোকে বিহ্বল। ঘটনাটি গোটা পাড়াকেও শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ সুমিত্রাদেবীর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। 
 গাড়ির ভিতরে মৃতদেহ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ